‘মমতা দরজা পাননি, আমি পাশে দাঁড়ালাম!’ হালিশহর কাণ্ডে মৃত কর্মীর পরিবারকে যা দিলেন শুভেন্দু, জানলে চমকে যাবেন

পুলিশি হেফাজতে এক তৃণমূলকর্মীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছিল হালিশহরে। রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই মৃত কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বিক্ষোভ ও ‘চোর’ স্লোগানের মুখে পড়েন এবং পরিবারের কেউই তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। ঠিক তার পরদিনই, অর্থাৎ সোমবার সকালেই সরাসরি সেই হালিশহরে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি একাধিক বড় ও মানবিক ঘোষণা করেছেন।

মৃত কর্মীর পরিবারকে সাহায্য ও পুনর্বাসনের ঘোষণা
সোমবার সকালে হালিশহরে মৃতের বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন অর্জুন সিং, স্থানীয় বিধায়ক এবং ডিজিপি (DGP)। এই সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেও এমন নজির নেই, যেখানে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান খোদ ডিজিপিকে সঙ্গে নিয়ে ভিন্ন মত পোষণকারী বা ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক কোনো পরিবারের বাড়িতে সশরীরে হাজির হয়েছেন।

মৃত ওই তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী পেশায় একজন কাউন্সিলর। শোকস্তব্ধ পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন:

চাকরির সংস্থান: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কোটার একজন অ্যাটেনডেন্ট পদে মৃতের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে এই পদে মাসিক ১৫,০০০ টাকা বেতন মিলবে এবং এক বছর পূর্ণ হলে তাঁকে গ্রুপ-ডি (Group-D) পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হবে।

আর্থিক সাহায্য: মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ড থেকে মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মৃত কর্মীর দুই সন্তানের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্বও গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।

পুলিশি তদন্ত ও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ
মৃতের পরিবার বিচার চেয়ে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের ওপরই আস্থা রেখেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পুলিশের হেফাজতে যে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তবে মৃত্যুর আসল কারণ শারীরিক অত্যাচার নাকি অন্য কিছু, তা তিনজন ডাক্তারের উপস্থিতিতে হওয়া ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের পরই স্পষ্ট হবে।

পরিবারের দাবি এবং ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে মুখ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন:

ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী অফিসারকে (IO) তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে।

পুরো ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রিরিয়াল ইনকোয়ারির (Magisterial Inquiry) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের ঠিক পরের দিনই শুভেন্দু অধিকারীর এই মাস্টারস্ট্রোক এবং মৃত কর্মীর পরিবারকে দেওয়া প্রশাসনিক সুরক্ষার আশ্বাস যে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *