দিঘা মোহনায় ইলিশের সুনামি! একদিনে ৩০ টন রুপোলি শস্য উঠতেই দাম কত কমল জানেন?

ইলিশের আকালে ধুঁকতে থাকা মৎস্যজীবীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়ে অবশেষে দিঘার মোহনায় এল সেই কাঙ্ক্ষিত সুখবর। গত পাঁচ-ছ’দিনে দিঘা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন মৎস্যবন্দর ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারগুলির জালে উঠেছে প্রায় ২০০ টন রুপোলি শস্য। শুধু রবিবার একদিনেই জালের টানে উঠে এসেছে ৩০ টনেরও বেশি ইলিশ!
ইলিশের খরা কাটিয়ে বদল পরিস্থিতি
মাছ ধরার মরশুমের একদম শুরুতে ইলিশের আকাল দেখা দেওয়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছিল ট্রলার মালিক ও মৎস্যজীবীদের। তবে শ্রাবণের শেষদিকে এসে আবহাওয়ায় বড় বদল ঘটেছে। একটানা ঝিরঝিরে বৃষ্টি এবং অনুকূল পূবালী হাওয়া ইলিশ ধরার জন্য একেবারে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। আর তার জেরেই মরশুমে এই প্রথমবার জালের টানে এত বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ল।
দিঘা থেকে কাঁথি—বাজার জুড়ে ইলিশের রমরমা
দিঘা মোহনা ছাড়াও কাঁথি, রামনগর, বালিসাই-সহ উপকূলবর্তী বিভিন্ন মাছের বাজার এখন জমজমাট ও ইলিশে ভরপুর। তবে বাজারে জোগান এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়লেও, খুচরা বাজারে ইলিশের দামে খুব একটা বড়সড় পতন দেখা যায়নি।
রবিবার দিঘা মোহনার পাইকারি ও নিলাম কেন্দ্রের বাজারে বিভিন্ন ওজনের ইলিশের দর কেমন ছিল, একনজরে দেখে নিন:
৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ: বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা দরে।
৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ: দাম ছিল কেজি প্রতি ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকা।
১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ (বিশেষ করে ১ কেজি ২০০ গ্রাম): বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ১,৩০০ থেকে ১,৪০০ টাকা দরে।
আগামী দিনে যদি সাগরে ইলিশের এই জোগান আরও বাড়ে, তবে সাধারণ মানুষের নাগালে দাম কিছুটা আসে কি না, এখন সেদিকেই অধীর আগ্রহে নজর রয়েছে ভোজনরসিক বাঙালি ও ক্রেতা-মৎস্যজীবীদের।