“১০০০ জনে চাকরি পান মাত্র ১২ জন!” যুবসমাজকে রিল ও নেশায় ডুবিয়ে রাখার চক্রান্ত চলছে, তোপ দাগলেন রাহুল গান্ধী

শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগে লাগাতার বিলম্বের মতো জ্বলন্ত ও গুরুতর সমস্যাগুলিকে সামনে রেখে এবার সরাসরি নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীব্র নিশানা করলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। শনিবার উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে পৌঁছে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ (Chhatron Ki Goonj) এবং ‘স্টুডেন্টস ইকো’ (Students Eco) নামক এক বিশেষ যুব সমাবেশে অংশ নেন তিনি। সেখানে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করার পাশাপাশি বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও কর্মসংস্থানহীনতা নিয়ে একহাত নেন রাহুল।

ডেটা আর এআই নিয়ে বিস্ফোরক দাবি: এদিনের সমাবেশে তরুণ প্রজন্মের মেধা ও তাদের ডিজিটাল ‘ডেটা’ (Data)-কে পুঁজি করে কীভাবে বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি মুনাফা অর্জন করছে, তা অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তাঁর স্পষ্ট কথা, দেশের যুবসমাজকে একটি সুপরিকল্পিত দুষ্টচক্রে আটকে ফেলা হয়েছে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সবাই আজকাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) নিয়ে কথা বলে, কিন্তু আপনাদের ডেটা ছাড়া এআই সম্পূর্ণ অর্থহীন। আপনারা ডেটা দিয়ে এআই তৈরি করতে পারেন, কিন্তু কোনোদিন এআই থেকে ডেটা তৈরি হতে পারে না। ডেটা আপনার, তরুণদের সম্ভাবনাও আপনার, কিন্তু এই গোটা ব্যবস্থা যুবসমাজকে বন্দি করে রেখেছে।”

রিল আসক্তি ও গিগ ইকোনমি নিয়ে কটাক্ষ: বর্তমান প্রজন্মের ডিজিটাল আসক্তি ও বেহাল চাকরির বাজারকে এক সুতোয় বেঁধে মোদি সরকারকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, “দেশের প্রতি ১০০০ জন তরুণের মধ্যে মাত্র ১২ জন স্থায়ী চাকরি পান। আপনাদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা ছিনিয়ে নিয়ে বড় বড় কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আপনাদের শুধু বলা হয়— যত খুশি রিল দেখুন, রিল তৈরি করুন। মনে রাখবেন, রিল হলো একবিংশ শতাব্দীর নতুন নেশা বা আসক্তি। দিনশেষে আপনাদের ব্লিংকিট বা উবারের মতো সংস্থায় গিয়ে শ্রমিকের কাজ করতে বলা হয়। অর্থাৎ তথ্য আপনার, কষ্ট আপনার, আর তার থেকে তৈরি হওয়া সম্পদ উপভোগ করছে অন্য কেউ!”

ভারতের যুবশক্তি ও ডেটাই আসল মূলধন: ভারতের যুবশক্তির ভূয়সী প্রশংসা করে রাহুল গান্ধী জানান যে, এই দেশে ৪০ কোটি উদ্যমী তরুণ রয়েছে, যা দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমেরিকা, চিন বা রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে ভারতের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনার কাছে বাকিরা ম্লান হয়ে যেতে বাধ্য। দেশের প্রত্যেক নাগরিক প্রতিদিন গড়ে যে পরিমাণ ডেটা ব্যবহার করেন, তা আগামী দিনের অর্থনীতিকে চালিত করবে। কিন্তু সরকারের ভুল ও হঠকারী নীতির কারণে সেই তারুণ্য ও সম্ভাবনা আজ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মিডিয়া এবং দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মুক্তচিন্তা নিয়ন্ত্রণের একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে বলেও এদিনের সমাবেশ থেকে অভিযোগ তোলেন রাহুল। তবে দেশের যুবসমাজ সমস্ত ভয়, হতাশা ও ঘৃণাকে দূরে সরিয়ে ভালোবাসার মাধ্যমেই তাদের প্রতিবাদ ও কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছে বলে দাবি করেন তিনি। উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লাগাতার প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম এবং সরকারি চাকরিতে দীর্ঘসূত্রিতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেস দল যে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছে, প্রয়াগরাজের এই বিশাল যুব সমাবেশ তারই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *