প্রথম চার্জশিটের রেশ কাটতে না কাটতেই বিপাকে দেবরাজ চক্রবর্তী! লিলুয়ার ব্যবসায়ীর অভিযোগে নতুন এফআইআর

দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগে ইতিমধ্যেই কারাবাস করছেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারির মাত্র ৩৫ দিনের মাথায় আদালতে প্রথম দফা চার্জশিট জমা পড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁর বিরুদ্ধে খুলে গেল এক প্রকার ‘প্যান্ডোরার বাক্স’! নতুন করে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার তোলাবাজির মারাত্মক অভিযোগ এনে সরাসরি বাগুইআটি থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন লিলুয়ার এক ব্যবসায়ী।

কী অভিযোগ ওই ব্যবসায়ীর? পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ভিআইপি রোডের ধারে একটি বহুতল বা বিল্ডিং থেকে লোহা বা স্ক্র্যাপ কেনার বরাত পেয়েছিলেন লিলুয়ার ওই ব্যবসায়ী। কিন্তু সেই কাজ শুরু করতেই দেবরাজের অনুগামীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়। তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই এলাকায় কাজ করতে হলে দেবরাজকে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা তোলা দিতে হবে, অন্যথায় কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। নিরুপায় হয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে ওই ব্যবসায়ী প্রথম দফায় দেবরাজের অনুগামীদের হাতে ৫০ লক্ষ টাকা নগদে তুলে দিয়ে কাজ শুরু করেন।

তবে অভিযোগ, বাকি টাকার instalments মেটাতে একটু দেরি হতেই দেবরাজের দলবল ফের তাঁর ওপর চড়াও হয়। কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বকেয়া তোলার টাকার জন্য তাঁকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতে থাকে। এই ভয়াবহ ও হেনস্থামূলক অভিজ্ঞতার পরেই অবশেষে সাহসের পরিচয় দিয়ে বাগুইআটি থানায় দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী।

আগেও একাধিক মামলা ও চার্জশিট: প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমানা এলাকা থেকে নাটকীয়ভাবে দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তিনি নাকি ১৫ দিনে টানা ৭ বার নিজের আস্তানা ও ঠিকানা পরিবর্তন করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেই তোলাবাজি, মানুষকে ভয় দেখানো এবং বেআইনি সিন্ডিকেট চালানোর একাধিক অভিযোগে বিএনএস (BNS)-এর ১১১ ধারা সহ বিভিন্ন কড়া ধারায় মামলা রুজু হয়।

সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় ১৫০ পাতার একটি চার্জশিট ১১ জন সাক্ষীর বয়ান যুক্ত করে বারাসত আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। সরকারপক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তদন্তে সিন্ডিকেট পরিচালনা ও তোলাবাজির পক্ষে যথেষ্ট অকাট্য প্রমাণ মিলেছে, যার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদন জানানো হয়েছে। আদালতের কাঠগড়ায় প্রথম মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই এই নতুন ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার তোলাবাজির অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় দেবরাজের আইনি জটিলতা যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *