স্কুলে ৫ জন শিক্ষককে খুন করে চাঞ্চল্য! ব্যাংককের উপকণ্ঠে ভয়াবহ বন্দুকবাজের হামলায় আহত ২৩

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে এক অভূতপূর্ব ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিউরে উঠেছে বিশ্ব। ব্যাংককের উপকণ্ঠে ননথাবুরি প্রদেশের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র ১৪ বছরের এক কিশোরের এলোপাথাড়ি গুলিতে পাঁচজন শিক্ষক-কর্মী সহ মোট সাতজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্কুলে এই তাণ্ডব চালানোর আগে ওই কিশোর নিজের বাড়িতে তার দাদা ও দাদিকে গুলি করে খুন করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সবশেষে সে নিজেও বন্দুক দিয়ে আত্মহত্যা করে। গত চার বছরের মধ্যে থাইল্যান্ডে ঘটা এটিই সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর গণহত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

কীভাবে ঘটেছিল এই মর্মান্তিক ঘটনা? পুলিশ ও সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ননথাবুরি প্রদেশের ‘দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল’-এ এই হামলা চালায় ওই নাবালক। তার দাদা-দাদির সঙ্গে থাকত সে। স্কুল সংক্রান্ত বা মানসিক কোনো কারণে সে মারাত্মক চাপের মধ্যে ছিল বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।

ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগেই সে তার দাদার নামে আইনত নিবন্ধিত বৈধ বন্দুক দিয়ে ঘরেই তার দাদা ও দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে সোজা স্কুলে চলে যায় এবং ক্লাস চলাকালীন আকস্মিকভাবে শ্রেণিকক্ষের ভেতর থেকে এবং পরে বাইরে এসে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। হামলাকারী ওই কিশোর তার দাদার বন্দুক থেকে মোট ২৬ রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল। পরে পুলিশ তার কাছ থেকে আরও ৩৪টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে।

হতাহত ও উদ্ধারকাজ: এই বর্বরোচিত হামলায় ঘটনাস্থলেই ৫ জন স্কুলকর্মী ও শিক্ষক নিহত হন। এছাড়া এই ঘটনায় মোট ২৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিকটবর্তী বাংইয়াই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়েই থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল অবিলম্বে স্কুলটি পরিদর্শন করেন এবং পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন।

স্কুলের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ক্লাসরুমে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দ শোনার পরেই ছাত্রছাত্রীরা দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে স্কুল চত্বরে দৌড়াতে শুরু করে। এদিকে স্কুল থেকে ফেরার পর পুলিশ যখন হামলাকারীর বাড়িতে যায়, তখন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ ওই কিশোরের দাদা ও দাদির মৃতদেহ উদ্ধার করে। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সি এক কিশোরের এমন ভয়াবহ তাণ্ডব এবং আত্মহত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *