ছ’মাস পরেই ছিল বিয়ের দিন! ফোনে বচসার জেরেই যুবতীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, কাঠগড়ায় প্রেমিক

কয়েক বছরের প্রেমের সম্পর্ক এবং দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে পাকা হওয়ার পরেও মর্মান্তিক পরিণতি। হবু কনের রহস্যজনক ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে। মৃতার পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, প্রেমিকের মানসিক নির্যাতনের জেরেই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন ওই যুবতী। এই ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার কুতরুকি গ্রামে। মৃতার নাম কোয়েল আঁকুড়ে (১৯)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আউশগ্রামের অমড়াগড়ের বাসিন্দা সুজয় বণিকের সঙ্গে গত তিন বছর ধরে কোয়েলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবারের সம்மতিতে তাদের বিয়েও ঠিক হয়ে যায় এবং আগামী ছ’মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের দিন ধার্য হওয়ার কথা ছিল।

কী ঘটেছিল ঠিক কী কারণে?
পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে ফোনে প্রেমিক সুজয়ের সঙ্গে কোয়েলের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর গভীর রাতে বাড়ির ভেতর নিজ ঘরেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন কোয়েল। শুক্রবার ভোরে মৃতার ভাই ঘরের মধ্যে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গেই গলসি থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনায় পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

পরিবারের ক্ষোভ ও বিধায়কের আশ্বাস
মৃতার মামা হাবল আঁকুড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “ভাগ্নি ওই ছেলের সঙ্গে প্রেম করত, আমরা তা মেনেও নিয়েছিলাম। ছেলের বাড়ির সঙ্গে কথাও হয়েছিল। কিন্তু ছেলেটার মানসিক নির্যাতনেই ভাগ্নি এই পথ বেছে নিয়েছে। আমরা তার কঠোর শাস্তি চাই।”

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে গলসির বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্র সরাসরি গলসি থানায় যান এবং মৃতার শোকস্তব্ধ পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি শেষকৃত্যের জন্য পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। বিধায়কের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতার বাবা। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *