কানওয়ার যাত্রার জেরে বড় সিদ্ধান্ত! কোন কোন জেলায় ১২ আগস্ট পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ?

শ্রাবণ মাসের অন্যতম বৃহত্তম বার্ষিক ধর্মীয় শোভাযাত্রা তথা ‘কানওয়ার যাত্রা’ (Kanwar Yatra)-কে কেন্দ্র করে চরম ব্যস্ততা উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায়। তীর্থযাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় এবং ব্যাপক যানজট এড়াতে গাজিয়াবাদ, মিরাট ও মুজাফফরনগরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত সমস্ত স্কুল ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কোন কোন প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা?
গাজিয়াবাদ: গাজিয়াবাদের ‘ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টর অফ স্কুলস’ (DIOS)-এর জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। জেলার প্রধান রাস্তাগুলো দিয়ে লক্ষ লক্ষ কানওয়ার তীর্থযাত্রীর যাতায়াত করার কথা থাকায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়: এই ছুটির নির্দেশ কেবল স্কুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই কদিন নিয়মিত পঠনপাঠন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ আগস্ট ‘শ্রাবণ শিবরাত্রি’-র আগে ভক্তদের ভিড় চরমে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকায় এই কড়াকড়ি।
মিরাট ও মুজাফফরনগর: গাজিয়াবাদের পাশাপাশি মিরাট জেলা প্রশাসনও ১২ আগস্ট পর্যন্ত সমস্ত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে। একই পথে হেঁটে মুজাফফরনগর জেলা প্রশাসনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নয়ডার ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত?
এখনও পর্যন্ত নয়ডা (Noida) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে কানওয়ার যাত্রার ব্যাপকতা এবং শেষ দিনগুলিতে তীর্থযাত্রীদের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে নতুন নির্দেশিকা জারি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়
ছুটি ঘোষণা করা হলেও পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা রয়েছে, সেগুলি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ শুধুমাত্র নিয়মিত ক্লাস এবং সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রমই এই কদিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।