কাদের অ্যাকাউন্টে আগে টাকা ঢুকবে, কারা পাবেন দেরিতে? অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা

অগস্ট মাস শুরু হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনো উপভোক্তা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar)-এর টাকা হাতে পাননি। তবে এবার এই বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, আবেদনপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের কাজ চলায় টাকা কিছুটা দেরিতে ঢুকলেও, আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যোগ্য মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হবে।
কবে কার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে?
রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, সমস্ত উপভোক্তারা একসঙ্গে এই টাকা পাবেন না, বরং ধাপে ধাপে তা দেওয়া হবে:
১৭ আগস্ট কারা টাকা পাবেন: যাঁদের আবেদনপত্র গত ১০ জুলাইয়ের মধ্যে জমা পড়েছে এবং যাচাই প্রক্রিয়ায় (Verification) কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি, শুধুমাত্র সেই যোগ্য মহিলারাই ১৭ আগস্ট থেকে প্রথম দফায় টাকা পাওয়া শুরু করবেন।
কাদের টাকা পেতে দেরি হবে: যাঁরা ১১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করেছেন, তাঁদের ভেরিফিকেশন বা যাচাইয়ের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে টাকা পেতে কিছুটা দেরি হবে। এই মহিলাদের টাকার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
কড়া যাচাই প্রক্রিয়া ও মোট আবেদন
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে যাতে কোনোভাবেই কোনো অযোগ্য ব্যক্তি বা ভুয়া উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা না পৌঁছায়, তার জন্য অত্যন্ত কঠোরভাবে যাচাই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই প্রকল্পে মোট ২ কোটি ১৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। এত বিপুল পরিমাণ আবেদন খতিয়ে দেখার কাজ চলছে বলেই সময় লাগছে।
১০ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
আগামী ১০ আগস্ট দুপুর ২টোয় নবান্নে ফের একটি সাংবাদিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের চূড়ান্ত তালিকা। অর্থাৎ, ঠিক কারা প্রথম দফায় টাকা পাচ্ছেন এবং কাদের নাম বাদ পড়েছে, তা সেদিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
প্রকল্পের মূল বিষয়গুলি এক নজরে:
বয়সসীমা: এই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারাই এই আর্থিক সহায়তার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
মাসের অনুদান: ভেরিফাইড যোগ্য মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে নিয়মিত ৩,০০০ টাকা করে পাঠাবে রাজ্য সরকার।
ভুয়ো প্রচার নিয়ে সতর্কবার্তা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ভুয়ো খবর বা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে প্রশাসন। এই ধরনের কাজে যুক্তদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নবান্নের তরফ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, এই জনপ্রিয় প্রকল্প বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।