“যন্তর মন্তরে পেট্রোল বোমা হামলা করো!” পাকিস্তান আইএসআই মডিউলের পর্দাফাঁস, গ্রপ্তার বংশ কুমার

পাকিস্তানভিত্তিক আইএসআই (ISI) সন্ত্রাসী মডিউল মামলায় পাঞ্জাব পুলিশের হাতে অমৃতসর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তকে জেরা করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ধৃত অভিযুক্ত বংশ কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দিল্লির যন্তর মন্তর এবং পাক হ্যান্ডলারদের নাশকতার ছক সংক্রান্ত ‘অপারেশন দিল্লি’র সম্পূর্ণ ব্লু-প্রিন্ট উন্মোচন করেছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ও পাঞ্জাব পুলিশ যৌথভাবে এই ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
কীভাবে এগোচ্ছিল এই নাশকতার ছক?
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫শে জুলাই দেব সিং ওরফে করণ বিশাল ওরফে গ্যাঙ্গুকে দিল্লি যাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় এক দোকানদারের মাধ্যমে এই যাতায়াতের জন্য ২,০০০ টাকার ব্যবস্থা করা হয়। সেই অনুযায়ী, ২৫ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে বংশ কুমার, বিশাল, রোহিত, দেব সিং এবং সুখদীপ সিং অমৃতসর রেলওয়ে স্টেশনে সমবেত হন এবং রাত সাড়ে ৭টার ট্রেনে নতুন দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ২৬ জুলাই সকাল ৬টা নাগাদ তাঁরা নতুন দিল্লি স্টেশনে পৌঁছে সরাসরি যন্তর মন্তরের দিকে পা বাড়ান।
যন্তর মন্তরে কী হয়েছিল?
তদন্তে জানা গিয়েছে, যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর পর পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের পাঠানো উত্তর প্রদেশ থেকে আসা এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেই ব্যক্তি তাদের হাতে আটটি কাচের বোতল তুলে দেয় এবং যন্তর মন্তর বা তার আশপাশে কর্তব্যরত পুলিশ, সেনা জওয়ান ও অন্যান্য উর্দিধারী সরকারি কর্মচারীদের ওপর পেট্রোল বোমা (Petrol Bomb) ছুড়ে হামলার নির্দেশ দেয়।
তবে শেষ মুহূর্তে অভিযুক্তরা ওই হামলার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা তাদের পাকিস্তানি হ্যান্ডলারকে ফোন করে সাফ জানিয়ে দেয় যে, পেট্রোল বোমা তৈরির সরঞ্জাম একটি বেঞ্চের নিচে রেখে তারা পালিয়ে যাচ্ছে এবং এই নাশকতার অংশ তারা হবে না। এরপর ওইদিনই তারা ফের ট্রেনে করে অমৃতসরে ফিরে আসে। হ্যান্ডলারদের একজন সেই সময় যন্তর মন্তর থেকেই সোজা পাকিস্তানে ফোন করেছিল বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তে দিল্লি পুলিশ ও সিসিটিভি স্ক্যানিং
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। স্পেশালের একটি দল ইতিমধ্যেই অমৃতসরে পৌঁছে গিয়েছে। পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের দাবি এবং অভিযুক্তদের যন্তর মন্তরে যাতায়াতের সত্যতা যাচাই করতে নিউ দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত রাস্তার শত শত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী অফিসারদের প্রধান প্রশ্ন হলো— ২৫ জুলাই রাতের মধ্যেই যখন যন্তর মন্তরের মূল প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং ২৬ জুলাই সেখানে শুধুমাত্র পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরাই নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তবে কি সুনির্দিষ্টভাবে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার উদ্দেশ্যেই এই চক্রান্ত করা হয়েছিল? উত্তর প্রদেশ সংযোগ ও সম্ভাব্য স্থানীয় মডিউলের খোঁজে এখন তল্লাশি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।