যৌন হেনস্থার মামলা থেকে ক্লিনচিট পেতেই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন! জেসিবি থেকে ফুলবৃষ্টি, গোন্ডায় বীরের সম্মান ব্রিজভূষণকে

মহিলা কুস্তিগিরদের আনা যৌন হেনস্থার চর্চিত অভিযোগ থেকে দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর অবশেষে বেকসুর খালাস পেলেন ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের (WFI) প্রাক্তন প্রধান ব্রিজভূষণ শরণ সিং। আইনি লড়াইয়ে সম্পূর্ণ ক্লিনচিট পাওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক গড় উত্তরপ্রদেশের গোন্ডায় এক রাজকীয় ও বর্ণাঢ্য প্রত্যাবর্তন ঘটল এই দাপুটে নেতার। তাঁকে স্বাগত জানাতে বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার অনুগামী, যা ঘিরে রীতিমতো রাজনৈতিক শোরগোল পড়ে গেছে।
চার্টার্ড বিমানে আগমন ও মেগা রোডশো
এদিন একটি বিশেষ চার্টার্ড বিমানে অযোধ্যার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন কায়সরগঞ্জের প্রাক্তন এই বিজেপি সাংসদ। বিমানবন্দর চত্বরে আগে থেকেই হাজার হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে দেখেই ঢাকঢোল এবং ‘শের আয়া’ (বাঘ এসেছে) স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা চত্বর।
সেখান থেকেই শুরু হয় বিশাল এক মেগা রোডশো, যা গোন্ডার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাস্তার দু’ধারে উপচে পড়া ভিড়ের পাশাপাশি শত শত গাড়ির কনভয় এই মিছিলে যোগ দেয়। উল্লাসের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, মাটি কাটার বিশাল জেসিবি (JCB) মেশিন এনে আকাশ থেকে অঝোরে ফুলের পাপড়ি বা পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। ফাটানো হয় দেদার বাজি।
হনুমানগড়িতে পুজো ও গদা হাতে ছেলের আস্ফালন
একটি হুডখোলা জিপে চেপে রোডশো এগিয়ে যায় অযোধ্যার বিখ্যাত হনুমানগড়ি মন্দিরের দিকে। মন্দিরের বাইরে থেকে পুজো দিয়ে সাধু-সন্তদের আশীর্বাদ নেন ব্রিজভূষণ। এই পুরো মিছিলে তাঁর পাশেই ছিলেন তাঁর বড় ছেলে তথা গোন্ডা সদরের বিধায়ক প্রতীকভূষণ সিং। গাড়ির সানরুফ দিয়ে বেরিয়ে এসে উল্লাসে ফেটে পড়েন তিনি এবং হাতে একটি বিশাল গদা ঘুরিয়ে শক্তির প্রদর্শন করেন। উচ্ছ্বসিত গলায় তিনি দাবি করেন, “সত্যের জয় হয়েছে।”
এলাহি গণভোজ ও বিশাল র্যালি
রোডশো শেষে ব্রিজভূষণের মূল গন্তব্য ছিল নন্দিনী নগর স্পোর্টস স্টেডিয়াম। সেখানে তাঁর সমর্থনে ‘সত্যমেব জয়তে’ শীর্ষক এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। মঞ্চে যাওয়ার আগে তিনি নন্দিনী গৌ মাতা মন্দিরেও বিশেষ পুজো দেন।
এই পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল এলাহি আয়োজন। উপস্থিত লোকজনকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল প্রায় ৪০ কুইন্টাল লাড্ডু! পাশাপাশি, ব্রিজভূষণকে বরণ করতে অযোধ্যা থেকে ৫০০-র বেশি বটুক বা ব্রাহ্মণকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও বিতর্কের মেঘ কেটে যাওয়ার পর নিজের খাসতালুকে এমন মেগা শো-র মাধ্যমে ব্রিজভূষণ বুঝিয়ে দিলেন যে, এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব ও রাজনৈতিক দাপট এখনও কতটা অটুট।