১৫ জনের প্রাণহানি: লখনউয়ের বহুতলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি আদালত অবমাননার নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের!

লখনউয়ের একটি কোচিং সেন্টারে গত জুন মাসে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি আমলে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। অনাবাসিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত আবাসিক ভবনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত লখনউ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (LDA)-এর ভাইস চেয়ারম্যানকে আদালত অবমাননার নোটিশ জারি করেছে।
পাশাপাশি, দুর্ঘটনার পর গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) রিপোর্টটি আগামী শুনানির দিনে একটি সিল করা খামে আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
২০১৬ সালের নির্দেশ খারিজ নিয়েই যত বিতর্ক
শুনানিকালে বিচারপতি হাসানউদ্দিন আমানুল্লাহ ও বিচারপতি আর. মহাদেবনের বেঞ্চকে সিনিয়র আইনজীবী ও অ্যামিকাস কিউরি অজিত কুমার সিনহা জানান যে, যে ভবনে এই প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল, সেটি ভেঙে ফেলার আদেশ আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১০ মে জারি করা হয়েছিল।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষ নিজেই ‘কারিগরি কারণ’ দেখিয়ে সেই ভাঙার নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর আর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত এত বড় ট্র্যাজেডি ঘটে।
জয়পুরের বাণিজ্যিক এলাকায় কোচিং ইনস্টিটিউট নিয়ে উদ্বেগ
লখনউয়ের পাশাপাশি জয়পুরের বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে যত্রতত্র কোচিং ইনস্টিটিউট পরিচালনার তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের এই বেঞ্চ।
জেডিএ-কে নির্দেশ: জয়পুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (JDA) আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানে গৃহীত পদক্ষেপগুলির বিশদ বিবরণ দিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তৃতীয় পক্ষের অনুকূলে করা কোনো বরাদ্দই কোনো স্বয়ংক্রিয় আইনি অধিকার তৈরি করে না।
ঝুলে থাকা আপিল নিয়ে অসন্তোষ: জেডিএ-র পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া আপিল মামলাগুলো দীর্ঘকাল ধরে ঝুলে থাকায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলো দীর্ঘদিন কার্যকর থাকায় আপিল কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এই ধরনের সমস্ত মামলার নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি নির্ধারিত সময়সীমা না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসারকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী ও জবাবদিহি করতে হবে বলেও সতর্ক করেছে আদালত।
ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও কোচিং সেন্টার স্থানান্তর বিতর্ক
আদালত জানিয়েছে, কোচিং ইনস্টিটিউটগুলির পরিচালনা ও স্থানান্তর সংক্রান্ত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিয়ে জয়পুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের জবাব দাখিল করার পর বিষয়টি নিয়ে আরও শুনানি হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করেছে যে, এই ধরনের বিতর্কিত ভবন অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করবে মামলার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর।
শুনানীতে আদালতকে জানানো হয় যে, সরকার কোচিং ইনস্টিটিউটগুলিকে নিরাপদে স্থানান্তরের জন্য নির্দিষ্ট বহুতল ভবন তৈরি করে দিলেও, এখনও বহু ইনস্টিটিউট বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক এলাকা থেকেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।