এক রাজ্যে দুই নিয়ম! ছত্তিশগড় আদালতে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মী নিয়োগে বড়সড় বৈষম্যের অভিযোগে তোলপাড়

ছত্তিশগড়ের জেলা আদালতগুলিতে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী (সহকারী গ্রেড-৩ এবং হিন্দি স্টেনোগ্রাফার) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ বিধিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। একই রাজ্যে চাকরির পরীক্ষায় দুই রকম নিয়ম চালু থাকায় বেকারের ক্ষোভ গিয়ে আছড়ে পড়েছে প্রশাসনের ওপর।
রায়পুর ও রাজনন্দগাঁওয়ে নিয়মের গ্যাঁড়াকল
রাজ্যের মোট ১০টি জেলায় অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রেড-৩ এবং স্টেনোগ্রাফার (হিন্দি) পদে শূন্যপদ পূরণের জন্য পৃথক বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রায়পুর এবং রাজনন্দগাঁও জেলায় নিয়োগের শর্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি উঠেছে:
এই দুই জেলায় ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ধার্য করা হলেও ফর্ম পূরণকারী সব প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাচ্ছেন না।
স্নাতকের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে একটি মেধা তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এরপর লিখিত ও দক্ষতা পরীক্ষার জন্য ওই মেধা তালিকার মাত্র ১৫ গুণ সংখ্যক প্রার্থীকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত (Shortlist) করে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। রায়পুর জেলা আদালতে একাই ৮১টি শূন্যপদে এই নিয়মেই নিয়োগ চলছে।
বাকি ৮ জেলায় সম্পূর্ণ আলাদা নিয়ম
বিপরীত চিত্র দেখা গিয়েছে রাজ্যের অন্য ৮টি জেলায়। দুর্গ, বিলাসপুর, বলদাবাজার, বলরামপুর, কাওয়ার্ধা, কোরবা, মুঙ্গেলি এবং কাঙ্কের— এই আটটি জেলায় নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা।
সবার জন্য উন্মুক্ত সুযোগ: এই জেলাগুলিতে কোনো রকম নম্বরের কাটছাঁট ছাড়াই সমস্ত যোগ্য স্নাতক আবেদনকারীকে লিখিত পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষা এবং দক্ষতা পরীক্ষার পারদর্শিতার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
প্রার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের হুশিয়ারি
বেকার ও চাকরিপ্রার্থীদের স্পষ্ট বক্তব্য, একই রাজ্যের একই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভেদে এমন ভিন্ন নিয়ম চালি করা এক ধরনের ‘নির্লজ্জ বৈষম্য’।
বঞ্চনার শিকার মেধাবীরা: ক্ষুব্ধ প্রার্থীদের যুক্তি, স্নাতকের মার্কশিটে কম নম্বর থাকলেই কেউ অযোগ্য হয়ে যায় না। অনেক প্রার্থীই লিখিত পরীক্ষা এবং স্কিল টেস্টে দুর্দান্ত ফল করতে পারেন, কিন্তু প্রথম ধাপেই নম্বরভিত্তিক কাটছাঁটের কারণে তাঁদের সেই সুযোগ থেকেই বঞ্চিত করা হচ্ছে।
একক নিয়মের দাবি: সমস্ত প্রার্থীরা অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক নীতি বাতিল করে রাজ্যের ১০টি জেলাতেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একরূপতা আনা এবং সব আবেদনকারীর জন্য সমান সুযোগের দাবি জানিয়েছেন।