DNA টেস্ট করাতে গিয়েই বড় বিপত্তি! স্ত্রীকে ভালোবেসে বিয়ে করার পর জানলেন তিনি আসলে নিজেরই কাকাতো বোন

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন বহু অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ভাইরাল হয়, যা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। সম্প্রতি তেমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে। এক টিকটক ক্রিয়েটর কৌতূহলবশত নিজের পারিবারিক ইতিহাস বা বংশলতিকা জানতে ডিএনএ পরীক্ষা (DNA Test) করান। কিন্তু সেই পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পর যে সত্যটি বেরিয়ে আসে, তা তাঁকে পুরোপুরি হতবাক করে দেয়। তিনি আবিষ্কার করেন যে, যে মহিলাকে তিনি ভালোবেসে বিয়ে করেছেন এবং যাঁর সঙ্গে তাঁর দুটি আদুরে সন্তানও রয়েছে, তিনি আসলে রক্ত সম্পর্কের দিক থেকে তাঁর নিজেরই চাচাতো বোন (First Cousin)! এই অদ্ভুত ও আকস্মিক সত্য প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই অনলাইন দুনিয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।

অপরিচিত থেকে যেভাবে সামনে এল রক্ত সম্পর্কের সত্যি
‘বোর্ড পান্ডা’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, @toothlessandruthless ইউজারনেমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও শেয়ার করা ওই টিকটক ক্রিয়েটর কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি যে তাঁর পারিবারিক ইতিহাস এমন এক অপ্রত্যাশিত মোড় নেবে। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী উভয়েই নিজেদের পৈতৃক শিকড় ও জিনগত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ডিএনএ রিপোর্ট আসার পর তাঁরা জানতে পারেন যে তাঁরা দুজনেই ফার্স্ট কাজিন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, বিয়ের আগে তাঁদের নিজেদের বা তাঁদের পরিবারের কারোরই এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না।

সন্তান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম মানসিক যন্ত্রণা
এই অপ্রত্যাশিত সত্য প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই ওই ব্যক্তি তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এরপর তাঁর কী করা উচিত, তা বুঝতে না পেরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে নেটিজেনদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে তিনি বলেছেন, “আমি যখন থেকে জানতে পেরেছি যে আমি আমার চাচাতো বোনকে বিয়ে করেছি, তখন থেকেই আমি দিশাহারা হয়ে পড়েছি। আমাদের কি এবার ডিভোর্স নেওয়া উচিত? আর আমাদের সুন্দর নিষ্পাপ সন্তানগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে?” তাঁর এই আকুল আর্তনাদের ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং লাখ লাখ ভিউ কুড়ায়।

বিয়ের আগে এই সম্পর্কের কথা কেন কেউ জানল না?
মানুষের মনে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল তা হলো— বিয়ের সময়ে বা তার আগে পরিবারের কেউ এই সম্পর্কের কথা কেন জানতে পারলেন না? এর জবাবে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর জানান যে, এই পারিবারিক যোগসূত্রটি তাঁদের বংশলতিকার এমন একটি হারিয়ে যাওয়া বা বিস্মৃত শাখা থেকে এসেছে, যার কথা দীর্ঘকাল কেউ জানত না। তাঁর দাদি এবং তাঁর স্ত্রীর দাদি ছিলেন আপন বোন। কিন্তু সময়ের আবর্তে দুই পরিবারের যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এই সম্পর্কের কথা চিরতরে চাপা পড়ে গিয়েছিল।

দ্বিধাবিভক্ত নেটদুনিয়া ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
এই ভাইরাল ঘটনাটি সামনে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন:

একদল নেটিজেন ও চিকিৎসকদের মত: ফার্স্ট কাজিনের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া, সিস্টিক ফাইব্রোসিসের মতো কিছু জিনগত বা বংশগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সামান্য বেশি থাকে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে অবিলম্বে তাঁদের সন্তানদের কোনো ভালো চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে জিনগত বা জেনেটিক পরীক্ষা (Genetic Testing) করানো এবং কাপল থেরাপি নেওয়া উচিত।

অন্যান্য ব্যবহারকারীদের মত: অনেকেই আবার মনে করছেন যে, যেহেতু ইতিমধ্যেই তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে এবং এতদিন বিষয়টি জানাই ছিল না, তাই এখন অতিরিক্ত প্যানিক না করে অতীত ভুলে বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া উচিত। ইতিহাসে বা সমাজে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে।

মনোবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে অহেতুক ভয় না পেয়ে সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথায় একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *