সিঙ্গুর, সুরাট থেকে সোজা মিলন মেলা! বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে বিরাট ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো এক মেগা বস্ত্র শিল্প সম্মেলন। ফিতে কেটে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের এই সম্মেলনে রাজ্যের বস্ত্র ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশের একাধিক নামী শিল্পপতি ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলা তথা দেশের টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ এবং বিনিয়োগের পরিকাঠামো নিয়ে সম্মেলনে একাধিক বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, মিলন মেলার এই মঞ্চ থেকে ঠিক কী কী গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী:

আইন বদলের ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি: শিল্প সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বাংলার টেক্সটাইল হাব বা বস্ত্র শিল্পের প্রসারের জন্য যদি কোনও আইনি পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়, তবে তিনি নিজে সেই পদক্ষেপ করবেন। শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে তাঁর সাফ কথা, “আপনাদের যা দরকার আমি করব।”

আইনশৃঙ্খলা ও গুন্ডারাজ নিয়ে কড়া বার্তা: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সব অপরাধ যেমন তোলাবাজি, কাটমানি, চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে আবহাওয়ার বদল হচ্ছে আপনারা তা টের পাচ্ছেন। বাংলায় আর কোনও গুন্ডামি বরদাস্ত করব না, কোনও তোলা উসুলি হতে দেব না।” ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি থেকে শুরু করে অনলাইন ব্যবস্থার প্রশংসাও করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বাংলা সফর: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গে তাঁর আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২৪ থেকে ২৮ আগস্ট বাংলা সফরে আসছেন নির্মলা সীতারমণ। চা বাগান এবং বস্ত্র ব্যবসা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষভাবে ভাবছে এবং বাংলার টেক্সটাইল শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কেন্দ্র সবরকম সহায়তা করবে।

ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলার হাল ফেরাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দ্রুত বাংলায় এসে রাজ্যের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে এখন পুরোপুরি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অতীতের মানসিকতার সমালোচনা ও সুরাটের প্রসঙ্গ: অতীতে বাংলার শিল্পবিমুখতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, সুরাটের নাম শুনলেই আগের মুখ্যমন্ত্রী ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে দূরে ঠেলে দিতেন। কিন্তু গোটা দেশটাই তো আমাদের। কলকাতার যেমন লাভ হবে, তেমনই সুরাটেরও লাভ হবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁর জন্যই আজ পশ্চিমবঙ্গ পাকিস্তানের মতো পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান: বাংলার মানুষের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব থাকলেও দক্ষ মানুষের অভাব নেই। মিলন মেলার এই সম্মেলনে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার মতো ব্যবসা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া লাক্স কোজি এবং আমুলের মতো সংস্থা রাজ্যে মিষ্টি দই ও আইসক্রিম তৈরির কারখানা করতে চলেছে বলেও ভূমি পূজনের প্রসঙ্গ টেনে জানান তিনি।

সবমিলিয়ে, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে পিছিয়ে থাকা বাংলাকে শিল্প ও বাণিজ্যের মানচিত্রে শীর্ষে পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকারের ডবল ইঞ্জিন মডেল এবং ব্যবসায়ীদের রাষ্ট্রবাদী মনোভাবই একমাত্র পথ— এই বার্তা দিয়েই মিলন মেলার বস্ত্র শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ মাতালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *