আমেরিকার সেনেট প্রাইমারিতে ঐতিহাসিক জয়! হেলে স্টিভেন্সকে হারিয়ে বাজিমাত করলেন আব্দুল এল-সায়েদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল এবং সর্বাধিক আলোচিত সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে প্রতিনিধি হেলে স্টিভেন্সকে (Haley Stevens) পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিলেন প্রগতিশীল নেতা তথা চিকিৎসক আব্দুল এল-সায়েদ (Abdul El-Sayed)। আমেরিকার রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী প্রো-ইসরায়েল লবিং গ্রুপ এআইপ্যাক (AIPAC)-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও বিশাল অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগের বিরুদ্ধে এটি এক প্রকার গণরায় হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে গ্যারি পিটার্সের খালি হওয়া এই সেনেট আসনের জন্য রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের (Mike Rogers) মুখোমুখি হবেন এল-সায়েদ।

প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় জয়
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সারা দেশে নজর কেড়েছিল, কারণ এক দিকে প্রগতিশীল গোষ্ঠীগুলি এল-সায়েদের পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, অন্য দিকে এআইপ্যাক ও তার সহযোগী রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিগুলি হেলে স্টিভেন্সের কড়া প্রো-ইসরায়েল অবস্থানের পক্ষে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল।

বিজয়ী ভাষণে আব্দুল এল-সায়েদ এই ফলাফলকে ‘বিগ-মানি পলিটিক্স’ বা বড় অঙ্কের রাজনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এক মোক্ষম জবাব বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভোটাররা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে “সাধারণ মানুষ সবসময় ক্ষমতাশালীদের পরাস্ত করতে পারে।” প্রচারে গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে সোচ্চার হওয়া এল-সায়েদ স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিকদের অধিকার এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এআইপ্যাকের প্রভাব ও রেকর্ড খরচ
রাজনৈতিক মহলের মতে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল উইংয়ের জন্য এটি একটি বড় মাইলফলক। বিশেষ করে যখন এল-সায়েদকে হারানোর জন্য বাইরে থেকে ৬০ মিলিয়নেরও বেশি ডলার খরচ করা হয়েছিল। এই ফলাফল ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এআইপ্যাকের ক্রমবর্ধমান একচ্ছত্র প্রভাবের ওপর একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচন
আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেনেট ব্যাটেলগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত মিশিগান। ফলে নভেম্বরে আব্দুল এল-সায়েদ বনাম রিপাবলিকান প্রার্থী ও প্রাক্তন কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের এই লড়াই মার্কিন সেনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। চিকিৎসক ও প্রাক্তন স্বাস্থ্য আধিকারিক এল-সায়েদের এই জয় বুঝিয়ে দিল যে, এস্টাবলিশমেন্ট এবং বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে আমেরিকার রাজনীতিতে প্রগতিশীল ও তৃণমূল স্তরের প্রার্থীদের প্রভাব দিন দিন কতটা শক্তিশালী হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *