অভিষেকের পিএ সুমিত রায়ের খোঁজে সিআইডি! শালবনী জমি কেলেঙ্কারির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস অভিযোগকারীর

পিএ সুমিত রায়কে খুঁজতে কাকভোরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। যদিও সেদিন তাঁর টিকিও ছুঁতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারপর থেকেই বেপাত্তা রয়েছেন সুমিত রায় (Sumit Roy)। শালবনীতে একটি চাঞ্চল্যকর জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তাঁর খোঁজ শুরু হয়েছে। আর এবার এই কেলেঙ্কারির গভীরে থাকা সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন মামলার মূল অভিযোগকারী শেখ ইমরান। কীভাবে জমি জালিয়াতির মাধ্যমে সুমিত রায় ও তাঁর সহযোগীরা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন, তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

সিআইডির স্ক্যানারে শালবনী মামলা
শালবনির এই জমি কেলেঙ্কারির মামলায় ইতিমধ্যেই মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা গ্রেফতার হয়েছেন। তদন্তে নাম উঠে আসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের। বর্তমানে এই মামলার তদন্তভারভার চলে গিয়েছে সিআইডির (CID) হাতে। সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পাশাপাশি তাঁর খোঁজে বিভিন্ন প্রান্তে সাঁড়াশি তল্লাশি চালাচ্ছেন সিআইডির আধিকারিকরা। সিআইডি তদন্তভার গ্রহণের পরই প্রথমবার গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন মামলার মূল অভিযোগকারী শেখ ইমরান।

তাঁর বিস্ফোরক দাবি, এই আইনি লড়াই ও মামলা থেকে সরে আসার জন্য পূর্বতন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাঁকে নানাভাবে বার্তা বা চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে সমস্ত চাপকে উপেক্ষা করে একটি বিস্ফোরক নথি প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি, যেখানে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে ঠিক কীভাবে এই জমি দুর্নীতি চালানো হয়েছে।

কী রয়েছে সেই চাঞ্চল্যকর নথিতে?
নথিতে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে—

আসল মালিকানা: যজ্ঞেশ্বরপুর মৌজার একটি বিশেষ জমি প্রথমে সুজয় হাজরা ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন খানের নামে ছিল।

খাস জমির জালিয়াতি: পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে যে ওই জমি আসলে ব্যক্তিগত নয়, বরং সরকারের খাস জমি। আইনি নিয়ম মেনে সেই জমি রাজ্য সরকারের অধীনে চলে যায় এবং তা ১ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী জমির মালিক স্বয়ং রাজ্য সরকার।

বাস্তব চিত্র: কিন্তু সেই সরকারি জমির নথিপত্র নিয়ে যখন বাস্তবে পেট্রোল পাম্প ও হোটেল পরিদর্শনে যাওয়া হয়, তখন দেখা যায় পুরো চিত্রটাই অন্য। খাতায়-কলমে পেট্রোল পাম্প ও হোটেলের মালিক হিসেবে নাম রয়েছে ওই ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন খানের স্ত্রী মালতী বিবির!

সরকারি জমিতে এমনভাবে রমরম করে পেট্রোল পাম্প ও হোটেল চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা দপ্তরের তরফ থেকে আজ পর্যন্ত কোনো নোটিশ পর্যন্ত পাঠানো হয়নি!

অধরা বাকি অভিযুক্তরা
অভিযোগ, সুজয় হাজরা এবং সুমিত রায়রা এভাবেই একের পর এক জমি জালিয়াতি করে নিজেদের পকেট ভারী করছিলেন। উল্লেখ্য, এই শালবনী জমি জালিয়াতি মামলায় শরফুদ্দিন খানও অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। পাশাপাশি, এই মামলায় কৈলাস আগরওয়াল ও নিত্য রায় সহ আরও বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের নাম রয়েছে, যারা এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে। সূত্রের খবর, সুমিত রায়ের পাশাপাশি বাকি পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজেও জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছেন সিআইডির তদন্তকারী গোয়েন্দারা।

শেখ ইমরানের আরও দাবি, এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য অতীতে তাঁকে প্রবল চাপ সহ্য করতে হয়েছে। জমি জালিয়াতির এই মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়ে সম্প্রতি অভিযোগকারী শেখ ইমরান দেখা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। এর পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *