বারুইপুরে ফের লজ্জার ছায়া! স্কুল থেকে ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গ্রেফতার ২ নাবালক

কয়েকদিন আগেই নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বারুইপুর এলাকা। পুলিশি এনকাউন্টারে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনা থিতিয়ে না যেতেই, ফের একবার নাবালিকা নির্যাতনের লজ্জাজনক ছবি সামনে এল সেই বারুইপুরেই। এবার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে রাস্তা আটকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠল দুই নাবালকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ওই স্কুলছাত্রী তার ছোট ভাইকে স্কুল থেকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। অভিযোগ, সেই সময় রাস্তায় দুই নাবালক তার পিছু ধাওয়া করে এবং হঠাত্ই পথ আটকে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, রাস্তায় প্রকাশ্যেই ওই ছাত্রীর নাম ও ফোন নম্বর চেয়ে অশালীন আচরণ শুরু করে তারা।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন অভিযুক্তরা ছাত্রীর হাত ধরে টানাটানি শুরু করে এবং জোর করে তাকে অন্যত্র তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। ছাত্রীর মায়ের কথায়, “ক্লাসের মধ্যেই গা ঘেঁষাঘেঁষি করছিল। এরপর আমার মেয়ে ভয় পেয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসতে গেলে রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে। এমনটা চললে মেয়েদের সুরক্ষা কোথায়?”
স্থানীয়দের তৎপরতায় হাতেনাতে ধরা পড়ে অভিযুক্ত
ভয়ে ও আতঙ্কে ওই নাবালিকা সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। জনতার তৎপরতায় সেই মুহূর্তে অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। পরে নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। রাতেই তল্লাশি চালিয়ে পলাতক অপর নাবালককেও আটক করা হয়। পরবর্তীতে দু’জনকেই গ্রেফতার করে আইনমাফিক জুভেনাইল হোমে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, নির্যাতিতা ছাত্রীর প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করানো হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত উভয় অভিযুক্তের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ক্ষুব্ধ ছাত্রীর পরিবার।