শাহরুখের ছবির নাম ভেবে পকেটে ৬ হাজার টাকা পুরেছিলেন রণবীর কাপুর! কী ছিল সেই মজার গল্প?

ছবি তো তৈরি, কিন্তু তার নাম কী হবে? এই একটাই প্রশ্ন ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিল বলিউড বাদশা শাহরুখ খান এবং পরিচালক ইমতিয়াজ আলির। একের পর এক নাম ভাবা হচ্ছে, আর তা বাতিলও করা হচ্ছে! মাথা গুলিয়ে যাওয়ার জোগাড় হওয়া সেই পরিস্থিতিতে কিং খান শেষমেশ একটা জম্পেশ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, “যে আমার এই ছবির সেরা নামটা দিতে পারবে, তাকে নগদ ৫,০০০ টাকা ইনাম দেব!”
ঘটনাটি বেশ কয়েক বছর আগের, যখন পরিচালক ইমতিয়াজ আলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন ছবির কাজ করছিলেন শাহরুখ। শুটিং শেষ, কিন্তু পারফেক্ট টাইটেল খুঁজে না পেয়ে একপ্রকার দিশেহারা অবস্থা ছিল পুরো টিম। তখনই এই অভিনব ক্যাশ প্রাইজের ঘোষণা করে বসেন বাদশা। টাকার অঙ্কটা তারকাদের কাছে হয়তো খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু স্বয়ং শাহরুখ খানের হাত থেকে নগদ ইনাম জেতার লোভ কি আর সহজে সামলানো যায়? ব্যস, নাম খোঁজার রেসে নেমে পড়লেন ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই। তবে একের পর এক নাম জমা পড়লেও শাহরুখ বা ইমতিয়াজ—কারও মনেই তা ঠিকমতো ধরছিল না।
মুশকিল আসান হয়ে এলেন রণবীর কাপুর
ঠিক সেই মোক্ষম সময়েই ময়দানে নামেন রণবীর কাপুর। শাহরুখকে সোজা ফোন ঘুরিয়ে তিনি বলেন, “শাহরুখ ভাই, কিচ্ছু ভাবতে হবে না, ছবির নাম রাখুন ‘হোন হ্যারি মেট সেজাল’।” নামটা শোনা মাত্রই শাহরুখের দারুণ পছন্দ হয়ে যায়। তবে হালকা একটু খটকা বাঁধিয়েছিলেন পরিচালক ইমতিয়াজ। তাঁর ভয় ছিল, এই নাম শুনলে দর্শকেরা হয়তো তাঁর পুরনো কাল্ট হিট ছবি ‘জব উই মেট’-এর ছায়া বা মিল খুঁজতে পারেন।
মাঝখান থেকে এরপর উদ্ধারকর্তা হয়ে আসেন করণ জোহর। তিনি একটু ঘষেমেজে ‘হোন’ শব্দটিকে বদলে বানিয়ে দিলেন ‘জব’। ব্যস, একনিমেষে সিলমোহর পড়ে গেল—‘জব হ্যারি মেট সেজাল’ (Jab Harry Met Sejal)।
শাহরুখের থেকে ৬,০০০ টাকা জেতার সেই মুহূর্ত
গল্পের আসল মজাদার পর্বটি ঘটেছিল এর ঠিক পরেই। ইমতিয়াজের এক পার্টিতে রণবীরকে দেখা মাত্রই কথা মতো পকেট থেকে কড়কড়ে ৫,০০০ টাকা বের করে তাঁর হাতে তুলে দেন শাহরুখ। এখানেই শেষ নয়! রণবীরের বুদ্ধিমত্তায় খুশি হয়ে সঙ্গে আরও ১,০০০ টাকা বোনাস হিসেবে তাঁর পকেটে গুঁজে দেন বাদশা। অর্থাৎ, এক ফোন কল আর সামান্য বুদ্ধিতে রণবীরের পকেটে ঢুকেছিল পুরো ৬,০০০ টাকা!
পরবর্তীতে ‘জগ্গা জাসুস’ ছবির প্রচারে এসে রণবীর নিজেই হেসে এই মজার গল্প সবার সামনে ফাঁস করেছিলেন। রসিকতা করে তিনি বলেছিলেন, “শাহরুখ ভাই অবশেষে আমার বকেয়া বিল মেটালেন, সঙ্গে আবার সুদে-আসলেও দিলেন!” যদিও শাহরুখ-অনুষ্কা শর্মার এই ছবি বক্স অফিসে খুব একটা বড় সাফল্য বা ম্যাজিক দেখাতে পারেনি, তবুও খোদ কিং খানের পকেট থেকে টাকা খসানোর এই খাসা গল্পটি আজও বলিপাড়ায় দারুণ জনপ্রিয় ও চর্চিত।