‘জেন জি’ শব্দ বলা চলবে না! বিজেপির অন্দরে হঠাৎ কেন এই নির্দেশ দিলেন সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার?

প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো প্রতিবাদের জেরে দেশজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভের কেন্দ্রে চলে আসা ‘জেন জি’ (Gen-Z) শব্দটি এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যন্তর মন্তরে তরুণ প্রজন্মের এই বিক্ষোভ এবং এর জেরে নৈতিক দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর রাজনৈতিকভাবে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে শাসক দল বিজেপি। আর সেই কারণেই সম্ভবত এখন দলের অন্দরে এই ‘জেন জি’ শব্দটিকে এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার রাজস্থান বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় সাংগঠনিক বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার দলীয় কর্মীদের এই বিশেষ শব্দটির পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
‘জেন জি’ নয়, বলতে হবে ‘যুব শক্তি’
জয়পুরে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার নেতা ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত নিচ্ছিলেন। সেই সময় আলোচনা চলাকালীন এক কর্মী পরামর্শ দেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী দিনে দলের ‘জেন জি’-দের সঙ্গেও নিবিড় সংযোগ স্থাপন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
এই মন্তব্য শোনার সঙ্গে সঙ্গেই অজয় কুমার জানতে চান ‘জেন জি’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে। এরপর তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, “আমাদের মুখে ‘জেন জি’ শব্দটি ব্যবহার করা একদম উচিত নয়। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী তরুণ প্রজন্মকে ‘যুব শক্তি’ বলে সম্বোধন করা উচিত।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং সরকারের ওপর তার প্রভাবের কারণেই বিজেপি এই পরিভাষাটি এড়িয়ে চলতে চাইছে।
বৈঠকে উথলে উঠল ক্ষোভ, তোপ ‘কংগ্রেস মানসিকতার অফিসারদের’ বিরুদ্ধে
জয়পুর বিভাগের অন্তর্গত বিভিন্ন জেলার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী, বিধায়ক, বিধানসভা প্রার্থী, জেলা সভাপতি এবং প্রবীণ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এদিনের এই বৈঠকে। সেখানে প্রশাসনিক কাজের ধীরগতি ও দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়টিও তীব্রভাবে উঠে আসে।
আলওয়ার উত্তর জেলা সভাপতি মহাসিংহ চৌধুরী নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ঝাবর সিং খারার কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রকাশ্যেই নিজের অসন্তোষ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, পৌর সংস্থায় কর্মরত একজন বিশেষ নির্বাহী কর্মকর্তাকে (EO) সরানোর জন্য তিনি অনুরোধ জানালেও সেই আবেদনে কোনো কর্ণপাত করা হয়নি।
পিলানির বিজেপি প্রার্থী রাজেশ দাহিয়া নগর উন্নয়ন দপ্তর (UDH)-এর কাজের মান নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের আগে অবিলম্বে পৌর সংস্থাগুলিতে ইও (EO), আরও (RO), এএন (AN), জেই (JE)-সহ সমস্ত শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা উচিত।
শুধু তাই নয়, তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, সরকার গঠনের আড়াই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বিগত কংগ্রেস সরকারের আমলের আদর্শে বিশ্বাসী বহু কর্মকর্তা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল তবিয়তে কাজ করে চলেছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের কল্যাণমূলক কাজ যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনই সরকারের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই স্থানীয় নিক্সন বা পৌরসভা নির্বাচনের আগেই এই ধরনের ‘কংগ্রেস মানসিকতার’ কর্মকর্তাদের পদ থেকে অপসারণের দাবি তোলেন তিনি।
দ্রুত পরিসেবা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা এও পরামর্শ দেন যে, ভোটের আগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ওয়ার্ড স্তরে নিকাশি ব্যবস্থা, জঞ্জাল সাফাই, রাস্তার আলো এবং ভাঙা রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করা দরকার। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ঝাবর সিং খারা বৈঠক চলাকালীনই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ফোন করে দ্রুত জোনাল পরিষেবা উন্নত করার কড়া নির্দেশ দেন।