কেন মাসের পর মাস আটকে থাকে পিএফের (EPFO) কাজ? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফও (EPFO)-র কাজকর্ম নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। পিএফের টাকা তুলতে যাওয়া বা কোনো দাবি মেটানোর কাজ সপ্তাহ কিংবা মাস ধরে আটকে থাকার ঘটনা আকছারই ঘটে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন এর আসল কারণ কী? এবার খোদ ইপিএফও কর্মকর্তাদের সংগঠন এই সমস্যার নেপথ্যে থাকা এক বিরাট ও চাঞ্চল্যকর কারণ প্রকাশ্যে এনেছে। সংস্থার পরিষেবা উন্নত করতে এবং কাজের গতি বাড়াতে এবার সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আইটি বিশেষজ্ঞ এবং পেশাদার কর্মী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন খোদ কর্মকর্তারা।
‘ইপিএফ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রককে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বর্তমান চরম কর্মী সংকটের কারণে ইপিএফও-র ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং জনসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
২০০৪ সালের পর আইটি বিভাগে হয়নি কোনো সরাসরি নিয়োগ
শ্রমমন্ত্রীকে লেখা ওই চিঠিতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো ইপিএফও-র তথ্য পরিষেবা বিভাগ বা আইএসডি (ISD)-তে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নতুন নিয়োগ হয়নি। আশ্চর্যজনকভাবে, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে সর্বশেষ সরাসরি নিয়োগ হয়েছিল ২০০৪ সালে!
সংগঠনটি জানিয়েছে, আইএসডি-র বহু যুগ্ম পরিচালক ও উপ-পরিচালক হয় অবসর নিয়েছেন নতুবা চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু তাঁদের শূন্যপদে কোনো নতুন অফিসার নিয়োগ করা হয়নি। শুধু তাই নয়, গত তিন বছর ধরে ইপিএফও একজন পূর্ণকালীন প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বা সিটিও (CTO)-ও নিয়োগ করতে পারেনি। ফলস্বরূপ, সম্পূর্ণ আইটি বিভাগটি বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত সম্পদ ও পরিকাঠামো নিয়ে কাজ চালাতে বাধ্য হচ্ছে। কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সফটওয়্যার তৈরির জন্য থার্ড-পার্টি বা বাইরের এজেন্সির সাহায্য নেওয়া হলেও, সংস্থার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইটি বিশেষজ্ঞ না থাকায় সেই সফটওয়্যারের মান ও সুরক্ষা সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে সিস্টেমের কারিগরি ত্রুটি আরও বেড়ে চলেছে।
মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে বাড়ছে কাজের পাহাড়
পিএফের দাবি বা ক্লেম আটকে থাকার জেরে সরাসরি মারাত্মক চাপের মুখে পড়তে হয় মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলির কর্মীদের। অনলাইন অভিযোগ পোর্টাল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং সরাসরি দপ্তরে আসা গ্রাহকদের ক্ষোভ সামলাতে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন কর্মীরা।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ইপিএফও-তে কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নজর দেওয়া হয়নি। কাজের চাপের শেষ মূল্যায়ন হয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে, অথচ দেশের বহু অফিস আজও ২০০৮ সালের নির্ধারিত কর্মী কাঠামোর ওপর ভর করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং গুরুগ্রামের মতো দেশের প্রধান মেট্রো শহরগুলির ইপিএফও অফিসগুলি সবচেয়ে বেশি কাজের চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।
সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি
সংগঠনটির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, সময়মতো কারিগরি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা না হলে, পর্যাপ্ত কর্মী বাড়ানো না গেলে এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোকে শক্তিশালী না করলে আগামী দিনে ইপিএফও-র গ্রাহক পরিষেবা আরও বেশি ভেঙে পড়বে। তাই অবিলম্বে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ করার জন্য সরকারের কাছে জোরদার আবেদন জানিয়েছে ‘ইপিএফ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’।