২০২৭ ইউপি ভোটের প্রথম প্রার্থী ঘোষণা অখিলেশের! অযোধ্যায় কাকে টিকিটে লড়াবেন সমাজবাদী প্রধান?

বুধবার লখনউতে বিশিষ্ট সমাজতান্ত্রিক নেতা জানেশ্বর মিশ্রের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে একপ্রকার বিস্ফোরণ ঘটালেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টি (SP) প্রধান অখিলেশ যাদব। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেন। এদিনের জনসভা থেকে অখিলেশ ঘোষণা করেন যে, আগামী নির্বাচনে অযোধ্যা সদর আসন থেকে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে লড়বেন পবন পান্ডে।
উল্লেখ্য, পবন পান্ডে ২০১২ সাল থেকে এই আসনটিতে লড়াই করে আসছেন। যদিও ২০১৭ এবং ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল, তবুও অযোধ্যা আসনে তাঁর জেতার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মত প্রকাশ করেছেন এসপি প্রধান।
ব্রাহ্মণ সমাবশে বড় বার্তা ও PDA তত্ত্ব
এদিনের একটি বিশেষ ব্রাহ্মণ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অখিলেশ যাদব বলেন, সমাজবাদী পার্টির জনপ্রিয় ‘পিডিএ’ (PDA) সূত্রের ‘পি’ অক্ষরটির অর্থ ‘পণ্ডিত’ বা ব্রাহ্মণরাও বটে। বিজেপি সরকারকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, সরকার তাদের যত বেশি যন্ত্রণা দেবে, পিডিএ ততটাই শক্তিশালী হয়ে উঠবে। উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিগত বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তোপ দাগেন অখিলেশ। জানেশ্বর মিশ্র পার্কের পরিবর্তে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠান করতে বাধ্য হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের শত বাধা সত্ত্বেও জানেশ্বর মিশ্রের আদর্শ ও মিশন কোনোভাবেই থামবে না।
জানেশ্বর মিশ্রের জন্মবার্ষিকী ও রাজনৈতিক সমীকরণ
সমাজবাদী পার্টি বরাবরই জানেশ্বর মিশ্রের জন্মবার্ষিকী অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে পালন করে আসছে। এই উদযাপনের মধ্য দিয়ে এসপি মূলত ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে এটিই বার্তা দিতে চায় যে, ব্রাহ্মণদের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির সম্পর্ক অত্যন্ত প্রাচীন এবং তা জানেশ্বর মিশ্রের আমল থেকেই চলে আসছে।
এদিনের এই অনুষ্ঠানে সনাতন পান্ডের নেতৃত্বে মাতা প্রসাদ পান্ডেসহ দলের একাধিক প্রবীণ ব্রাহ্মণ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান সরকারের কার্যকলাপে রাজ্যের ব্রাহ্মণ সমাজ একটি বড় অংশের হতাশা তৈরি হয়েছে, এবং তাঁরা বিকল্প হিসেবে অখিলেশ যাদবের ওপরই ভরসা রাখছেন।
বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ
এদিন বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে অখিলেশ বলেন, ভারতীয় ইতিহাসের কোথাও কোনো দিন শঙ্করাচার্যকে স্নান করতে বাধা দেওয়ার নজির নেই, কিন্তু বর্তমান শাসকরা তা করে দেখিয়েছেন। তরুণ প্রজন্ম তথা জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মকে এই সরকার ভয় পায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া কৃষ্ণ ও সুদামার বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বন্ধুত্বের গভীরতা নিয়ে শাসক শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করেন এসপি প্রধান। আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচনে এই কৌশল উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।