সিবিএসই বোর্ড পরীক্ষার নিয়মে বিরাট বদল! নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা এবার পাবে ‘ক্রেডিট পয়েন্ট’

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে পা বাড়াল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। শিক্ষার্থীদের সার্বিক বা ৩৬০-ডিগ্রি মূল্যায়নের লক্ষ্যে সিবিএসই-অধিভুক্ত স্কুলগুলিতে শীঘ্রই বাস্তবায়িত হতে চলেছে ‘ন্যাশনাল ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক’ (NCrF)। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ সফল হলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কেবল পাসের নম্বর বা গ্রেডই নয়, সঙ্গে পাবে নির্দিষ্ট ক্রেডিট পয়েন্ট, যা তাদের উচ্চশিক্ষার পথকে অত্যন্ত সুগম করবে। ইতিমধ্যেই দেশের কিছু রাজ্যে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়ে গেছে এবং পর্যায়ক্রমে তা সমস্ত সিবিএসই স্কুলেও চালু করা হবে।

এনসিআরএফ (NCrF) আসলে কী?
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020)-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই ক্রেডিট র‍্যাঙ্কিং কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি এমন একটি একক কাঠামো, যা স্কুল শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক বা দক্ষতা শিক্ষাকে এক সুতোয় বাঁধে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে একীভূত করে শিক্ষার্থীদের একাধিক প্রবেশ-প্রস্থান (Multiple Entry-Exit) এবং পেশাগত দক্ষতাকে উৎসাহিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এর আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের ক্রেডিট প্রদান করা হয়।

কীভাবে নির্ধারিত হবে এই ক্রেডিট?
এনসিআরএফ-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কুল স্তরে ক্রেডিট অর্জনের একটি সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা তৈরি করা হয়েছে:

শিক্ষণ ঘণ্টা ও ক্রেডিট: প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১,২০০ ঘণ্টা শিক্ষার জন্য মোট ৪০টি ক্রেডিট বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ৩০ ঘণ্টা পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীরা ১টি করে ক্রেডিট পাবে।

বিষয়ভিত্তিক ক্রেডিট বিভাজন: নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা পঠিত বিষয়ের সময়সীমা অনুযায়ী ক্রেডিট অর্জন করবে—

ভাষাভিত্তিক বিষয়: প্রতি ১২০ ঘণ্টা অধ্যয়নের জন্য ৪ ক্রেডিট।

গণিত, বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান: প্রতি ১৫০ ঘণ্টা অধ্যয়নের জন্য ৫ ক্রেডিট।

শারীরিক শিক্ষা ও কলা (Arts): প্রতিটির জন্য ২ ক্রেডিট করে।

আন্তঃবিষয়ক কোর্স: ৪ ক্রেডিট।

বৃত্তিমূলক শিক্ষা (Vocational Studies): ৫ ক্রেডিট।

এছাড়াও, মূল বিষয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিষয় বা খেলাধুলা ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েও শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে।

উচ্চশিক্ষায় কীভাবে সাহায্য করবে এই ক্রেডিট?
সিবিএসই-র এই নতুন ক্রেডিট সিস্টেম স্কুল পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা পাইয়ে দেবে। এর মাধ্যমে—

দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পেশাগত ও বৃত্তিমূলক কোর্সে সরাসরি পার্শ্বীয় প্রবেশ (Lateral Entry)-র সুযোগ পাবে।

উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তি বা রেজিস্ট্রেশনের সময় এই ক্রেডিট পয়েন্ট শিক্ষার্থীদের মেধার মান ও প্রোফাইলকে আরও শক্তিশালী করবে।

সার্বিকভাবে, মুখস্থ বিদ্যার দিন শেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান, দক্ষতা এবং বহুমুখী প্রতিভাকে মূল্যায়নের যে উদ্যোগ সিবিএসই নিয়েছে, তা ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *