মালদহে হাড়হিম করা হামলা! বাগান থেকে ফেরার পথে প্রৌঢ়কে কোপ, ডান হাত ও কান কেটে নিল দুষ্কৃতীরা

বাগান থেকে বেরোনোর সময় প্রকাশ্য দিবালোকে এক প্রৌঢ়কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। পিছন দিক থেকে এসে মাথা, ঘাড়, বুক ও পেটে একের পর এক কোপ মারা হয় এবং কেটে নেওয়া হয় তাঁর ডান হাত ও কান। শুধু তাই নয়, এর পর পরপর দুই রাউন্ড গুলিও চালানো হয়। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই প্রৌঢ়। এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলের এক গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান সহ ৮ জন তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। পুরো ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা সকলেই পলাতক।
হাড়হিম করা এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের কালিয়াচকের সুজাপুর এলাকায়। আহত ওই ব্যক্তির নাম ইসরাফিল শেখ।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইসরাফিল শেখ তাঁর ছাগলের খামার থেকে ফিরে বাড়ির কাছের একটি বাগানে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময়ই সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান আরিফ আলি এবং তাঁর অনুগামী কয়েকজন তৃণমূল কর্মী পিছন থেকে তাঁর ওপর চড়াও হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপে মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের দাবি, তাঁর ডান হাত ও কান কেটে নেওয়া হয়েছে। এরপর দুটি গুলি চালিয়ে তাঁকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইসরাফিলকে উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কী বলছেন আহত প্রৌঢ়ের স্ত্রী?
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আহতের স্ত্রী সাহেদা খাতুন কালিয়াচক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, “পেঁপে গাছে কীটনাশক দেবেন বলেছিলেন উনি। চারটে বাড়ির পরই ওই গাছের বাগান, সেখানেই গিয়েছিলেন। তখনই পিছন থেকে এসে কোপ মারে। কেন করল বুঝতেই পারছি না! ডান হাত কেটে পড়ে গেল। সব শেষ হয়ে গেল। অভিযুক্তরা সবাই তৃণমূল করে। আমি কল্পনাও করতে পারিনি এমনটা হবে। কারও সঙ্গে তাঁর কোনো শত্রুতাও ছিল না।”
ঘটনার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই নৃশংস হামলার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রাক্তন প্রধান সহ সমস্ত অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।