ঐতিহাসিক পরিবর্তন! ১৩৫ বছরের পুরনো আইন বাতিল করে সংসদে নতুন বিল আনল কেন্দ্র, ব্যাঙ্কিং লেনদেনে আসছে বড় বদল!

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বিচারব্যবস্থা ও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় আনতে চলেছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। ১৩৫ বছরেরও বেশি পুরনো ঔপনিবেশিক আইন বাতিল করে আদালতে ব্যাঙ্কিং নথিপত্র এবং ডিজিটাল প্রমাণ পেশের নিয়ম বদলাতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। গত ৩ আগস্ট সংসদে পেশ করা হয়েছে ‘ব্যাঙ্কার্স বুক এভিডেন্স বিল, ২০২৬’ (Bankers’ Books Evidence Bill, 2026)।
কেন্দ্রী অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন লোকসভায় এই নতুন বিলটি উত্থাপন করেন। এটি ১৮৯১ সালের পুরনো ‘ব্যাঙ্কার্স বুক এভিডেন্স অ্যাক্ট’-এর জায়গা নেবে, যা গত শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আদালতে ব্যাঙ্কের রেকর্ড পেশের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই নতুন আইনটি আনা হয়েছে।
নতুন বিলের মূল বৈশিষ্ট্য ও ডিজিটাল প্রমাণের স্বীকৃতি
নতুন বিলের সবচেয়ে বড় এবং উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো—আদালতে ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক রেকর্ডের আইনি বৈধতা এবং গ্রহণযোগ্যতা। প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের খাতা বা নথির ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল সংস্করণ আদালতে প্রমাণ হিসেবে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, তবে তার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে।
ইলেকট্রনিক প্রমাণ গ্রহণের শর্তাবলি:
সঠিকতা: ইলেকট্রনিক কপিটি সংশ্লিষ্ট এন্ট্রি বা তথ্যের একটি নিখুঁত প্রতিলিপি হতে হবে এবং রেকর্ডটিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
অনুমোদিত নয় এমন পরিবর্তনহীনতা: ডেটাতে কোনো ধরনের অননুমোদিত পরিবর্তন করা যাবে না।
অখণ্ডতা: সিস্টেমের অখণ্ডতা এবং সঠিকতা প্রমাণ করার জন্য কোনও রকম টেম্পারিং বা কারচুপি এড়ানো নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যাঙ্ক কর্মীদের হাজিরা থেকে ছাড়
প্রস্তাবিত এই বিলে ব্যাঙ্ক কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর রয়েছে। মামলার সঙ্গে যদি ব্যাঙ্ক সরাসরি যুক্ত না থাকে, তবে ব্যাঙ্কের কোনও কর্মকর্তাকে আদালতে ব্যাঙ্কার্স বুক বা রেকর্ড জমা দেওয়ার জন্য বাধ্য করা যাবে না। পাশাপাশি, লেনদেন বা অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিষয় প্রমাণ করার জন্য কোনও ব্যাঙ্ককর্মীকে সাক্ষী হিসেবে হাজির হতেও বাধ্য করা যাবে না। একমাত্র আদালত বা বিচারকের বিশেষ নির্দেশ থাকলেই কেবল তা সম্ভব হবে।
‘বিশেষ কারণ’ (Special Cause) কী?
বিলের শর্ত অনুযায়ী, যদি কোনও এন্ট্রি বা তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকে, রেকর্ড সংরক্ষণের নিয়মে বিঘ্ন ঘটে, কিংবা ব্যাঙ্ক যদি পরিদর্শন সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ অমান্য করে, তবেই আদালত ‘বিশেষ কারণ’ দেখিয়ে ব্যাঙ্ককর্মীকে তলব করতে পারে।
পোস্ট অফিস এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তি
এই বিলটি কেবল প্রচলিত ব্যাঙ্কগুলির জন্যই নয়, বরং সমস্ত ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠান, পোস্ট অফিস সেভিংস ব্যাঙ্ক এবং মানি অর্ডার অফিসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে (যেমনটি ১৮৯১ সালের আইনেও ছিল)। এছাড়া, কেন্দ্র সরকার চাইলে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আর্থিক খাতের অন্য যে কোনও সংস্থাকেও এই আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবে।