মাঝআকাশে বিমান কাঁপিয়ে ৩০০ ফুট নিচে নামল এয়ার ইন্ডিয়া! ফুকের-দিল্লি ফ্লাইটে বিভীষিকাময় মুহূর্ত

থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান আজ এক চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। AI ২৩৭৯ নম্বরের এই বিমানটি মাঝআকাশে হঠাৎ ভয়াবহ টার্বুলেন্সের (Turbulence) বা তীব্র বাতাসের ঝাঁকুনিতে পড়ে। বাতাসের আকস্মিক এই ঝাঁকুনিতে গোটা বিমানে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঝাঁকুনির তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, অনেক যাত্রী নিজেদের আসন থেকে শূন্যে ছিটকে পড়েন। এই দুর্ঘটনায় চারজন ক্রু সদস্য এবং ১১ জন যাত্রীসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি নিরাপদে অবতরণের পরেই আহতদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে বিমানে থাকা যাত্রীদের মুখেই।

ঠিক কী হয়েছিল মাঝআকাশে?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর এবং প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের বিবরণ অনুযায়ী, বিমান ওড়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর এই ঘটনা ঘটে। সেই সময় সকাল হওয়ায় বিমানের ১০০ জনেরও বেশি যাত্রীর মধ্যে অনেকেই ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎই কোনও পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়া বিমানটি মারাত্মকভাবে দুলতে শুরু করে।

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি একপাশে ভয়ঙ্করভাবে হেলে পড়ে এবং দেখতে দেখতে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। সেই সময়ে যাঁদের গায়ে সিটবেল্ট বাঁধা ছিল না, সেই যাত্রীরা সোজা বিমানের ছাদের দিকে ছিটকে যান। সেখান থেকে সজোরে ধাক্কা খেয়ে তাঁরা আবার মেঝেতে আছড়ে পড়েন। এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি একটানা চলতে থাকে।

একই সঙ্গে বিমানের উপরের লাগেজ ক্যাবিন বা কেবিন খুলে ভারী ভারী ব্যাগপত্র ও লাগেজ যাত্রীদের মাথা ও শরীরের ওপর এসে পড়ে। এক আতঙ্কিত যাত্রী জানান, “দু’ থেকে তিন মিনিট টানা এই ঘটনা ঘটে। ঝাঁকুনির চোটে এক থেকে দেড় বছরের এক শিশু তার অভিভাবকের কোল থেকে ছিটকে প্রায় তিনটে সিট দূরে গিয়ে পড়ে। এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা যে ভবিষ্যতে বিমানে উঠতে ভয় করবে।”

যাত্রীদের শিহরিত করার মতো বিবরণ
বিমানে থাকা অন্য এক ইতালীয় যাত্রী ভিভিয়ানার কথায়, “সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই ছিল, কিন্তু হঠাৎ পরিস্থিতি বদলে যায়। ঝাঁকুনিতে আমার বোন সিট থেকে শূন্যে ছিটকে যায়। মায়ের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। আমার হাত থেকেও ফোন ছিটকে দূরে পড়ে যায়। পিছনের এক যাত্রীর মুখ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। আমরা ভেবেছিলাম আজই আমাদের জীবনের শেষ দিন। প্রচণ্ড আতঙ্কে আমার কান বন্ধ হয়ে গেছে।”

পাইলটের দক্ষতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই তীব্র আতঙ্ক ও চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেই বিমানের পাইলট অসাধারণ দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেন। বিমানটিকে দিল্লির মাটিতে নিরাপদে অবতরণ করাতে পারায় এক বড় ধরনের বিমান বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। বিমান নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে প্রস্তুত থাকা মেডিক্যাল টিম আহতদের জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা দেয়।

অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (DGCA) এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার আধিকারিকরা আকস্মিক এই ভয়াবহ টার্বুলেন্সের পিছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *