কালীঘাটে তৃণমূল কাউন্সিলরের কার্যালয় ভাঙচুর নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা! বিজেপির বিরুদ্ধে ‘গুন্ডামি’র অভিযোগ কুণাল ঘোষের

কালীঘাটে বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলরের কার্যালয় ভাঙচুর করাকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি রাজ্য বিজেপি। উল্টে কলকাতা পৌরনিগমের একটি নোটিস সামনে এনে বিজেপি মুখপাত্র দাবি করেছেন, ওই কার্যালয়টি আসলে একটি অবৈধ দখলদারি ছিল এবং নিয়ম মেনেই প্রশাসন সেখানে পদক্ষেপ করেছে।
কুণাল ঘোষের অভিযোগ ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কড়া ভাষায় পোস্ট করেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি লেখেন,
‘কালীঘাটে বিজেপির গুন্ডামি। ওয়ার্ড ৮৩। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিদায়ী পুরপিতা প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে আচমকা বিজেপির দুষ্কৃতীদের হামলা, ভাঙচুর, তাণ্ডব। দখলদারির চেষ্টা।’ কুণালবাবু জানান, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, শ্রীদীপ দাস প্রমুখ নেতারা। এই হামলার তীব্র নিন্দা করে পুলিশে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর আরও কটাক্ষ, ভরসন্ধেয় যদি কালীঘাটের মতো ভিড় এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তবে সারা বাংলায় আইনশৃঙ্খলা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা সহজেই অনুমেয়।
অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে পাল্টা তোপ বিজেপির
কালীঘাটের সদানন্দ রোডে অবস্থিত বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলরের ওই কার্যালয় ভাঙার ঘটনায় বিজেপির ন্যূনতম কোনো হাত নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। কুণাল ঘোষের সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং বিদ্বেষপ্রসূত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
এক্স হ্যান্ডলে (তৎকালীন টুইটার) কলকাতা পৌরনিগমের একটি সরকারি নোটিসের ছবি শেয়ার করে দেবজিৎ সরকার লেখেন:
‘বহু বছর ধরে ৮৩ নম্বর ওয়ার্ডের অষ্টম বরো এলাকার ৪২, সদানন্দ রোডের একটি সম্পত্তি তৃণমূল কংগ্রেস বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছিল। শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তিই নয়, সংলগ্ন সরকারি ফুটপাতও বেআইনিভাবে দখল করা হয়েছিল। ওই সম্পত্তির বৈধ মালিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগ এবং অভিযোগকারীর উত্থাপিত বিষয়গুলির ভিত্তিতে কলকাতা পৌরনিগম আইন অনুযায়ী অননুমোদিত কাঠামো অপসারণের পদক্ষেপ করে।’
বিজেপি নেতার স্পষ্ট দাবি, সম্পত্তির যে অংশ ভাঙা বা অপসারণ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে পৌরনিগমের বৈধ প্রশাসনিক অভিযানের অংশ। বৈধ মালিকের দীর্ঘদিনের বেআইনি দখলের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপিকে জোর করে জড়ানোর চেষ্টা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কুণাল ঘোষকে তীব্র নিশানা করেন দেবজিৎ সরকার।