রেলযাত্রীদের জন্য বিরাট সুখবর! স্টেশনেই এবার মিলবে হোটেল বুকিং থেকে ক্যাব—চালু হল দুর্দান্ত ডিজিটাল কিয়স্ক

ডিজিটাল ইনোভেশনের মাধ্যমে রেলযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)। গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ‘ডিজিটাল ট্রাভেল অ্যাসিস্ট্যান্স কিয়স্ক নেটওয়ার্ক’। ‘GoLukBuk’ নামের এই অভিনব প্রকল্প উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়েতে এই প্রথম চালু করা হলো এবং এটি ভারতীয় রেলের ‘নিউ ইনোভেটিভ নন-ফেয়ার রেভিনিউ আইডিয়াস স্কিম’ (NINFRIS)-এর আওতায় বাস্তবায়িত হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব, প্রিন্সিপাল চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার নিরজ সহায় এবং অন্যান্য বিশিষ্ট আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই নতুন কিয়স্ক নেটওয়ার্কটির উদ্বোধন করা হয়।

কী এই ‘GoLukBuk’ এবং এটি কীভাবে কাজ করবে?
‘GoLukBuk’ হলো একটি সম্পূর্ণ ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা যাত্রীদের ইন্টারঅ্যাক্টিভ কিয়স্কের মাধ্যমে ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবা খুব সহজেই তুলনা ও বুক করার সুবিধা দেয়। এর মাধ্যমে যাত্রীরা একটিমাত্র ডিজিটাল ইন্টারফেসে পাবেন—

হোটেল আবাসন বুকিং

ক্যাব ও গাড়ি ভাড়া পরিষেবা

খাবার ও পানীয় সরবরাহ

স্লিপিং পড ও মিটিং পড আরক্ষণ

ভ্রমণ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা

যাত্রীদের একাধিক ভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা আলাদা আলাদা পরিষেবা প্রদানকারীর ওপর নির্ভর করতে না হয়, তার জন্যই এই সহজ, দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব বুকিং ব্যবস্থা ডিজাইন করা হয়েছে। রেলওয়ে স্টেশনে কৌশলগত অবস্থানে এই ডিজিটাল কিয়স্কগুলি স্থাপন করা হয়েছে, এবং আগামী দিনে ব্যস্ততম স্টেশনগুলিতে আরও অতিরিক্ত কিয়স্ক তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া ও অতিরিক্ত বিশেষত্ব
বিজ্ঞাপনের অভিনব মাধ্যম: এই কিয়স্কগুলিতে হাই-রেজোলিউশনের ডিজিটাল ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং অত্যাধুনিক এলইডি হলোগ্রাম ফ্যান টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে এটি একটি চমৎকার ‘ডিজিটাল আউট-অফ-হোম’ (DOOH) বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদিন হাজার হাজার রেলযাত্রীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধার পরিধি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করতে অদূর ভবিষ্যতে এই কিয়স্কে ‘কুইক কমার্স’ (Quick Commerce)-এর মতো অতিরিক্ত পরিষেবা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের।

এনআইএনএফআরআইএস স্কিমের আওতায় চালু হওয়া এই প্রকল্পের প্রাথমিক লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে সন্তোষজনক কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে বৃদ্ধি করা যেতে পারে। প্রযুক্তি-চালিত পরিসেবার মাধ্যমে যাত্রীদের সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উন্নত করার পাশাপাশি রেলের দীর্ঘস্থায়ী নন-ফেয়ার রেভিনিউ বৃদ্ধিতেও এটি এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *