আধুনিক যুদ্ধে বাড়ছে সাইবার হামলার ঝুঁকি! প্রতিরক্ষিমন্ত্রীর বড় ঘোষণায় জোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায়

পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামরিক ও বেসামরিক ব্যবস্থার মধ্যে উন্নত সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সোমবার (৩ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ৮৫তম এএফএইচকিউ (AFHQ) বেসামরিক পরিষেবা দিবসে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি স্পষ্ট জানান যে, ‘জাতি প্রথম’ এই চেতনা সামরিক ও বেসামরিক উভয় পরিষেবারই একটি যৌথ দায়িত্ব। যখন সবার লক্ষ্য এক হয়, তখন ব্যবস্থার প্রতিটি অংশই দেশের শক্তিতে পরিণত হয়।
কৌশলগত মস্তিষ্কে পরিণত হতে হবে এএফএইচকিউকে
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন যে, এএফএইচকিউ সিভিলিয়ান সার্ভিসেসকে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার কৌশলগত মস্তিষ্কে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এর জন্য গবেষণা, ভূ-কৌশলগত চিন্তাভাবনা এবং উদ্ভাবনের ওপর অধিক জোর দেওয়া প্রয়োজন।
আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তির ভূমিকা ক্রমাগত বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বেসামরিক কর্মকর্তাদের শুধু নিয়মকানুন ও পদ্ধতি প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, জাতীয় নিরাপত্তা-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত।
সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের যৌথ প্রশিক্ষণের পরামর্শ
রাজনাথ সিং বলেন, সামরিক কর্মকর্তারা যেমন অভিযানগত অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বদানের বোধ এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন, তেমনই বেসামরিক কর্মকর্তারা প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা, নীতি নির্ধারণী অভিজ্ঞতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার শক্তি বহন করেন। উভয় পক্ষের বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করার মাধ্যমে আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব।
একে অপরের অভিজ্ঞতা ও কর্মপন্থা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং দায়িত্ব বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
সাইবার যুদ্ধ এবং সামরিক ইতিহাস চর্চা
সাইবার যুদ্ধের উদাহরণ দিয়ে রাজনাথ সিং জানান যে, এএফএইচকিউ-এর বেসামরিক পরিষেবা কর্মকর্তারা তাদের দক্ষতা ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত সাধারণ সাইবার সরঞ্জাম তৈরিতে অবদান রাখতে পারেন। পাশাপাশি, ভারতীয় সামরিক ইতিহাস অধ্যয়নের জন্য একটি বিশেষ ফোরাম তৈরির পরামর্শও তিনি দেন, যা প্রতিরক্ষা খাতে নতুন ধারণা এবং অভিনব চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যেকোনো সেনাবাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর পেছনে হাজার হাজার মানুষের অবদান থাকে, যাদের ভূমিকা অদৃশ্য হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এএফএইচকিউ ক্যাডারকে এমনই এক নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
বেশ কয়েকটি ডিজিটাল উদ্যোগের সূচনা
অনুষ্ঠান চলাকালীন রাজনাথ সিং বেশ কয়েকটি ডিজিটাল উদ্যোগ এবং একটি সংশোধিত রূপকল্প ও লক্ষ্য বিবৃতি চালু করেন। এর মধ্যে রয়েছে:
ইন্টারনেট-ভিত্তিক আবাসন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (IBAMS)
টিউলিপ ২.০-এর সাথে ই-এইচআরএমএস এবং বেতন ও ভাতা প্রক্রিয়াকরণের একীকরণ
স্প্যারো পোর্টালে অন্তর্ভুক্তিকরণ
এছাড়াও, তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকার ৩৪তম সংখ্যা প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী এএফএইচকিউ-এর কর্মচারী ও তাঁদের সন্তানদের সম্মানিত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ, প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং সহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বহু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এএফএইচকিউ দিবস কী?
প্রতি বছর ১লা আগস্ট এএফএইচকিউ দিবস পালিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো সেই সমস্ত বেসামরিক কর্মচারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, যারা সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও জওয়ানদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ১৯৪২ সালের ১ আগস্ট এই ক্যাডারের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল।