‘একটাও লেনদেন করে দেখিয়ে দিন!’ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইডি-র সঙ্গে সওয়াল কপিল সিব্বলের

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার ঘটনায় এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হলো সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)। কলকাতার হাইকোর্টের নিযুক্ত অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের নিয়ন্ত্রণে থাকা দলীয় অ্যাকাউন্টগুলি থেকে দৈনন্দিন খরচ ও কর্মীদের বেতন মেটানোর জন্য তহবিলের একটি নির্দিষ্ট অংশ তোলার অনুমতি চেয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছে শাসকদল। সোমবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ (Justice M.M. Sundaresh) এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-কে (ED) এই অন্তর্বর্তীকালীন আর্জির বিষয়ে তাদের জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টে কপিল সিব্বল বনাম ইডি সওয়াল
এ দিন শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী তথা সাংসদ কপিল সিব্বল (Kapil Sibal) সুপ্রিম কোর্টকে জানান যে, দলের অ্যাকাউন্টগুলি সম্পূর্ণ ফ্রিজ থাকায় কর্মীরা সময়মতো তাঁদের বেতন পর্যন্ত পাচ্ছেন না। তবে বিচারপতি সুন্দরেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, আদালত এই মুহূর্তে মূল মামলার মেধার (merits) ওপর বিচার করছে না এবং তারা শুধুমাত্র অন্তর্বর্তীকালীন ত্রাণের আবেদনটিই খতিয়ে দেখছে।

অন্যদিকে, ইডি-র পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস. ভি. রাজু (S.V. Raju) দাবি করেন যে, তৃণমূলের সমস্ত অ্যাকাউন্ট কিন্তু ফ্রিজ করা হয়নি এবং বর্তমানেও কিছু আর্থিক লেনদেন চালু রয়েছে। এই দাবিকে তীব্র চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কপিল সিব্বল পাল্টা বলেন, “একটাও লেনদেন হয়েছে এমন প্রমাণ দেখিয়ে দিন।” উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের অন্তর্বর্তীকালীন আর্জির জবাবে ইডি-কে তাদের বক্তব্য পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

এর আগে হাইকোর্টে কী নিয়ে আপত্তি তুলেছিল ইডি?
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূল সাংসদ ডলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনের করা রিট পিটিশনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তারা প্রশ্ন তুলেছিল যে, দলের পক্ষ থেকে এই মামলা করার বৈধ আইনি অধিকার ওই নেতাদের আদৌ আছে কি না।

ইডি-র আইনজীবী এস. ভি. রাজু আদালতে যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি বা জাতীয় কার্যনির্বাহী সমিতি হলো দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা। ডেরেক ও’ব্রায়েন এই কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আবেদনে কোথাও এমন কোনও প্রমাণ বা দস্তাবেজ পেশ করা হয়নি যা থেকে স্পষ্ট হয় যে, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি বা ক্ষমতা দিয়েছিল।

সবমিলিয়ে, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং তহবিল সচল করার এই আইনি লড়াইয়ে আগামী মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *