গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের ঐতিহাসিক সাফল্য! বক্সারদের পারফরম্যান্সে কী বললেন শ্রেয়াস আইয়ার?

সম্প্রতি গ্লাসগোতে সমাপ্ত হওয়া কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ (Commonwealth Games 2026)-এ ভারতের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করলেন ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার (Shreyas Iyer)। এই মেগা ইভেন্টে দারুণ লড়াই চালিয়ে ভারত মোট ৩৯টি পদক (১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো ও ৯টি ব্রোঞ্জ) জিতে পদক তালিকার চতুর্থ স্থানে থেকে নিজেদের অভিযান সফলভাবে শেষ করেছে।
এবারের কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহ্যবাহী বেশ কয়েকটি পদকমুখী খেলা অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় দল সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে অসাধারণ প্রদর্শন করেছে। বিশেষ করে, ভারতের বক্সিং কন্টিনজেন্ট গেমসের ইতিহাসে তাদের সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ায় তাদের বিশেষভাবে কুর্নিশ জানিয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার।
বক্সিংয়ে ভারতের ইতিহাস গড়া পদক জয়
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা বক্সাররা রিংয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে মোট ১০টি পদক নিজেদের ঝুলিতে পুরে নিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ৭টি পদক জয়ই ছিল ভারতের সেরা রেকর্ড, যা এবার বক্সাররা ভেঙে চুরমার করে দিলেন। ভারতীয় পুগিলিস্টরা গ্লাসগো থেকে ৭টি সোনা এবং ৩টি রুপো নিয়ে দেশে ফিরেছেন।
মহিলা বক্সাররা দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে ৫টি সোনা জিতেছেন এবং পুরুষ বিভাগেও দুজন ভারতীয় বক্সার পোডিয়ামের শীর্ষস্থান দখল করে ইতিহাস গড়েছেন।
মহিলা বিভাগ: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জেসমিন লম্বোরিয়া (৫৭ কেজি), এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন প্রিয়া ঘানঘাস (৬০ কেজি), সাক্ষী চৌধুরী (৫১ কেজি), প্রীতি পাওয়ার (৫৭ কেজি) এবং অরুন্ধতী চৌধুরী (৭০ কেজি) সোনা জিতেছেন। অন্যদিকে অলিম্পিক পদকজয়ী লাভলিনা বরগোঁহাই (৭৫ কেজি) রুপো অর্জন করেছেন।
পুরুষ বিভাগ: পুরুষদের বিভাগে শচিন সিওয়াচ এবং অঙ্কুশ পাঙ্গাল তাঁদের নিজ নিজ ক্যাটাগরিতে দুর্দান্ত লড়াই করে স্বর্ণপদক জয় করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রেয়াস আইয়ারের বার্তা
বক্সারদের এই অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখে উচ্ছ্বসিত শ্রেয়াস আইয়ার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (পূর্বতন টুইটার) লিখেছেন:
“টিম ইন্ডিয়ার জন্য কী দুর্দান্ত কমনওয়েলথ গেমস গেল! আমাদের বক্সাররা গ্লাসগোতে রাজত্ব করেছে, দেশকে সোনা এনে দিয়ে গর্বিত করেছে। দেশের প্রতিটি চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা অ্যাথলিটকে আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে অভিনন্দন, যাঁরা গোটা দেশকে অনুপ্রাণিত করেছেন। এটি ভারতীয় ক্রীড়াজগতের সেরা রূপ। তেরঙা গায়ে জড়ানো প্রতিটি অ্যাথলিটের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।”
হকি, শ্যুটিংয়ের মতো বড় ইভেন্ট না থাকা সত্ত্বেও বক্সারদের এই রেকর্ড ভাঙা সাফল্য এবং ভারতের সামগ্রিক চতুর্থ স্থান অর্জন আগামী দিনে দেশের ক্রীড়াজগতে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।