চার হাজার কোটির বাজেট নাকি ডাহা মিথ্যা? রামায়ণ নিয়ে মুখ খুললেন নির্মাতারা, ফাঁস আসল রহস্য!

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া বহু প্রতীক্ষিত ‘রামায়ণ’ (Ramayana) ছবির ট্রেলার দেখে সিনেপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন আকাশছোঁয়া। পৌরাণিক এই মহাকাব্যের চরিত্রায়ন থেকে শুরু করে এর চোখধাঁধানো চিত্রনাট্য—সব মিলিয়ে আগামী ২০২৬ সালের দীপাবলিতে ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন দর্শকেরা। তবে ছবির ট্রেলারের পাশাপাশি এই মুহূর্তে যে বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের কাপে সবচেয়ে বেশি ঝড় তুলেছে, তা হল এর চোখ কপালে তোলা বাজেট—৪,০০০ কোটি টাকা!
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এর আগে কোনও একটি ছবির পেছনে এত বিপুল অর্থ বরাদ্দ বা ব্যয় হতে দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি এই ছবির বাজেট এত বিশাল? আর এই সুবিশাল অঙ্কের টাকার আসল রহস্যই বা কোথায় লুকিয়ে রয়েছে?
সত্যি কি ৪,০০০ কোটি টাকার ছবি ‘রামায়ণ’?
এককথায় উত্তর হলো—হ্যাঁ, তবে এর নেপথ্যে রয়েছে একটি বড় হিসাব। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ছবিটি একটি দুই পর্বের মেগা ফ্রাঞ্চাইজি হিসেবে তৈরি হচ্ছে। যার প্রথম পর্ব অর্থাৎ ‘রামায়ণ: পার্ট ১’ মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের দীপাবলিতে এবং দ্বিতীয় পর্ব প্রেক্ষাগৃহে আসবে তার ঠিক এক বছর পর, ২০২৭ সালের দীপাবলিতে।
ছবির অন্যতম প্রযোজক নমিত মালহোত্রা নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, এই পুরো প্রজেক্টটি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি বাজেটে তৈরি হচ্ছে। তবে মনে রাখা দরকার, এই ৪,০০০ কোটি টাকার পরিসংখ্যানটি কিন্তু মোট দুটি ছবি মিলিয়ে। মূল শুটিং বা প্রডাকশনের সরাসরি খরচ এর থেকে কিছুটা কম হলেও, এই বিশাল অঙ্কের মধ্যে ধরা রয়েছে বিশ্বব্যাপী মার্কেটিং, ছবির প্রচার, পরিবেশনা, আইম্যাক্স (IMAX) রিলিজ এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দুটি আলাদা পর্বে ছবি পৌঁছে দেওয়ার প্রকাণ্ড খরচ।
কোথায় খরচ হচ্ছে ৪,০০০ কোটি টাকা?
হিসেব কষে দেখলে স্পষ্ট হবে, এই বিশাল খরচের সিংহভাগটাই চলে যাচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের (VFX) পেছনে। ছবিটির ভিএফএক্স এবং আইম্যাক্সের দায়িত্বে রয়েছে অস্কারজয়ী বিশ্বখ্যাত ভিএফএক্স স্টুডিও ‘DNEG’ (যার মালিক স্বয়ং সহ-প্রযোজক নমিত মালহোত্রা)। এর আগে এই স্টুডিও ‘ডুন’ (Dune), ‘ইন্টারস্টেলার’ (Interstellar) বা ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’-এর মতো বিশ্বমানের হলিউড প্রজেক্টে কাজ করেছে।
ভিএফএক্স ও প্রযুক্তি: পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ১০,০,০০০-এরও বেশি ভিএফএক্স শিল্পী দিনরাত কাজ করছেন এই ছবির জন্য। অযোধ্যা-লঙ্কার রূপায়ণ, রাবণের দশ মাথা বা বানর সেনার যুদ্ধ—বেশিরভাগ দৃশ্যই বাস্তব লোকেশনের বদলে ডিজিট্যালি তৈরি হচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে ‘অবতার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’-এর মতো ছবি ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘ভার্চুয়াল প্রোডাকশন’ প্রযুক্তি।
এ আর রহমান ও হ্যান্স জিমার জুটি: ছবির মিউজিকের পেছনে খরচ হচ্ছে এক বিশাল অংশ। ভারতীয় সিনেমা জগতে এই প্রথমবার একসঙ্গে জুটি বেঁধে সুর বুনছেন দুই কিংবদন্তি—এ আর রহমান এবং হলিউডের অস্কারজয়ী সুরকার হ্যান্স জিমার (‘দ্য ডার্ক নাইট’, ‘ইনসেপশন’ খ্যাত)!
তারকাদের বিশাল পারিশ্রমিক: ভগবান রামের ভূমিকায় রণবীর কাপুর, সীতার চরিত্রে সাই পল্লবী, রাবণের ভূমিকায় যশ এবং হনুমানের চরিত্রে সানি দেওল অভিনয় করছেন। পাশাপাশি রবি দুবে, অমিতাভ বচ্চন, লারা দত্ত, কাজল আগরওয়াল ও অরুণ গোভিলের মতো তারকারাও এই প্রজেক্টে যুক্ত রয়েছেন। এতজন সুপারস্টারকে চুক্তিবদ্ধ করতেই গেছে বিশাল অংক।
আইম্যাক্স (IMAX) ফর্ম্যাট: ছবিটি বিশেষভাবে আইম্যাক্স ফর্ম্যাটের কথা মাথায় রেখে তৈরি হচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ ক্যামেরা ও জটিল প্রযুক্তিগত প্রসেসিং, যা নির্মাণ খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে, রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’ কেবল একটি পৌরাণিক চলচ্চিত্র নয়, এটি ভারতীয় সিনেমার বিশ্বমঞ্চে এক বিশাল বাজি। এখন দেখার, ২০২৬ সালের দীপাবলিতে প্রেক্ষাগৃহে রিলিজের পর এই মহাযজ্ঞ দর্শকমনে ঠিক কতটা আলোড়ন তুলতে পারে!