৬ মাসে ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ জয়ের ইতিহাস! মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পৃথিবীর মায়া কাটালে লিজেন্ডারি ‘নিমস দাই’

পাকিস্তানের ৮,০৪৭ মিটার উচ্চতার ব্রড পিক (Broad Peak)-এ ভয়াবহ তুষারধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম প্রখ্যাত ও লিজেন্ডারি পর্বতারোহী নির্মল ‘নিমস’ পুরজা, যিনি বিশ্বজুড়ে ‘নিমস দাই’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। পাকিস্তানের আলপাইন ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নির্মল পুরজা সহ তাঁর আন্তর্জাতিক অভিযাত্রী দলের ১০ জন সদস্যেরই করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ থাকার দীর্ঘ তিন দিন পর অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর নিথর দেহ।
কীভাবে ঘটেছিল এই দুর্ঘটনা?
গত বৃহস্পতিবার ব্রড পিকে হঠাৎই ভয়াবহ তুষারধস নামে। এরপর থেকেই নির্মল পুরজার দলের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ পর্বতারোহীদের সন্ধানে টানা তল্লাশি চালানোর পর রবিবার পাকিস্তানের আলপাইন ক্লাব জানায়, প্রায় ৫,৭০০ মিটার উচ্চতা থেকে উদ্ধারকারী দল নির্মল পুরজার মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছে। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আয়াজ শিগরি জানিয়েছেন, নির্মল পুরজা সহ চার জনের দেহ পাহাড় থেকে নীচে নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দুই নেপালি এবং এক জন চিনা নাগরিক রয়েছেন। তবে অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া, তীব্র বরফঝড় ও বিপজ্জনক ভূখণ্ডের কারণে উঁচুতে আটকে থাকা বাকি দেহগুলি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কিংবদন্তি ‘নিমস দাই’-এর অসামান্য জীবন ও কীর্তি
৪৩ বছর বয়সি নির্মল পুরজা পর্বতারোহণ বিশ্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর গোর্খা ব্রিগেড এবং রয়্যাল মেরিনসের স্পেশাল বোট স্কোয়াড্রনে সুনামের সঙ্গে কাজ করার পর তিনি পূর্ণ সময়ের পর্বতারোহী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পথে পা বাড়ান।
-
প্রজেক্ট পসিবল (Project Possible): ২০১৯ সালে তিনি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়ে মাত্র ৬ মাস ৬ দিনে (১৮৯ দিন) পৃথিবীর ১৪টি আট-হাজারি উচ্চতম শৃঙ্গ জয় করে এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন।
-
সর্বশেষ অভিযান: সম্প্রতি তিনি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই বিশ্বের ১৪টি শৃঙ্গ দ্বিতীয়বার জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্রড পিকে অভিযানে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম ক্রূরতায় মাঝপথেই তাঁর এই মহাযাত্রার চিরতরে সমাপ্তি ঘটে।
এই কিংবদন্তি পর্বতারোহীর আকস্মিক ও অকাল প্রয়াণে নেপাল, ব্রিটেন সহ গোটা বিশ্বজুড়ে পর্বতারোহণ ও ক্রীড়া মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্রিটিশ প্রিন্স উইলিয়াম থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে বহু আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব তাঁর এই বিয়োগে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।