পড়াশোনার জায়গায় চরম লঙ্কাকাণ্ড! ছাত্রছাত্রীদের সামনে প্যান্ট খুলে বসেন প্রধান শিক্ষক, ছত্তিশগড়ে তুলকালাম

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্র প্রাঙ্গণকে কলঙ্কিত করার একটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে ছত্তিশগড়ের জাঞ্জগির-চম্পা জেলা থেকে। পামগড় থানা এলাকার ডোঙ্গাকোহরাউদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভুবনেশ্বর কৌশিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি স্কুল চলাকালীন ছাত্রছাত্রীদের সামনে নিজের প্যান্ট খুলে ফেলেন এবং নিরীহ ছাত্রীদের কাছে ডেকে তাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এই জঘন্য ঘটনার কথা জানতে পেরে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুরা। পরবর্তীতে তারা বাড়ি ফিরে সমস্ত ঘটনা পরিবারকে জানালে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ক্লাসরুমেই চলত অসভ্যতা
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঘটনার দিন চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা যখন শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করছিল, সেই সময় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ভুবনেশ্বর কৌশিক পাশের একটি শ্রেণিকক্ষে প্যান্ট নামিয়ে বসেন। এই সময় শিক্ষার্থীরা কোনো একটি পড়া বা প্রশ্নের সমাধান চাইতে তাঁর কাছে গেলে তিনি তাদের সামনেই চরম অসভ্যতায় লিপ্ত হন এবং ছাত্রীদের কাছে টেনে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। শিক্ষকের এই বিকৃত আচরণ দেখে ভয়ে ও আতঙ্কে কেঁপে ওঠে ছোট ছোট শিশুরা। স্কুল ছুটি হতেই তারা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে গিয়ে পরিবারকে সবটা খুলে বলে।
অভিভাবকদের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়লেন হেডস্যার
বাচ্চাদের মুখে এই অভিজ্ঞতার কথা শোনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবক ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা। মুহূর্তের মধ্যে ক্ষুব্ধ জনতা ও পরিবারের লোকজন দলবেঁধে সোজা স্কুলে গিয়ে হাজির হন। ক্লাসরুমে ঢোকার মুখেই দেখা যায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নিজের চেয়ারে অর্ধনগ্ন অবস্থায় বসে রয়েছেন। অভিভাবকরা তৎক্ষণাৎ তাঁদের মোবাইল ফোনে এই লজ্জাজনক ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করেন। চারিদিক থেকে ক্ষুব্ধ জনতার ঘেরাও এবং ক্যামেরার ফ্ল্যাশ দেখে ভড়কে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তড়িঘড়ি নিজের প্যান্ট পরতে শুরু করেন।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও বরখাস্তের নির্দেশ
এই নৃশংস ও লজ্জাজনক ঘটনার পর আর এক মুহূর্তও দেরি করেনি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে জরুরি পরিষেবা নম্বর ‘১১২’-এ ফোন করে পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানান। খবর পাওয়া মাত্রই পামগড় থানার পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত ভিড়ের হাত থেকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পামগড় থানায় ভুক্তভোগী কোমলমতি ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদের দীর্ঘ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তাঁদের বিবৃতির ভিত্তিতেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার চরম সংবেদনশীলতা ও গাম্ভীর্য বিবেচনা করে জাঞ্জগির-চম্পার জেলা কালেক্টর অবিলম্বে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে (DEO) একটি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে কঠোর শাস্তি ও দ্রুত সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।