পায়ের নিচে রামললার ছবি! সংসদের বাইরে প্রতিবাদের নামে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে বিপাকে পাপ্পু যাদব

সংসদে অভিনব প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বড়সড় আইনি বিপাকে পড়লেন পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব। সংসদের বাইরে প্রতীকী প্রতিবাদের সময় গেরুয়া পোশাক পরে রামললার ছবি পায়ের নিচে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগে আঘাত লাগার অভিযোগ তুলে দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন সূর্য মৈথিল নামের এক ব্যক্তি।
কী অভিযোগ এনেছেন অভিযোগকারী?
অভিযোগকারী সূর্য মৈথিল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “পাপ্পু যাদব যেভাবে গেরুয়া রং ও সনাতন সংস্কৃতিকে অপমান করেছেন এবং সংসদের বাইরে নাটক করেছেন, সেই নাটককে প্রকাশ্যেই সমর্থন করেছেন রাহুল গান্ধী, ডিম্পল যাদব, অবধেশ কুমার এবং ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের অন্যান্য সাংসদরা। এই প্রতিবাদের সময় পাপ্পু যাদব এমনকী ভগবান রামলল্লা বিরাজমানের ছবিও নিজের পায়ের নিচে রেখে দিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “এর ফলে কোটি কোটি সনাতনীর ধর্মীয় অনুভূতিতে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। আমি এর বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরপুরী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। একইসঙ্গে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দিল্লি পুলিশ কমিশনার, ডিসিপি নর্থ, ডিসিপি নর্থ ওয়েস্ট, এসিপি জাহাঙ্গীরপুরী এবং এসএইচও জাহাঙ্গীরপুরীর কাছে আমার কড়া দাবি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য দায়ী পাপ্পু যাদব ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
সংসদ চত্বরে ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ৩০ জুলাই সংসদ চত্বরে এক অভিনব ও রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত প্রতিবাদের দৃশ্য দেখা যায়। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে কোণঠাসা করতেই বিরোধী সাংসদরা ওই দিন একটি পথনাটকের আয়োজন করেছিলেন। প্রতিবাদী সেই নাটকে গেরুয়া পোশাকে এবং মন্দিরের পুরোহিতের ছদ্মবেশে হাজির হন সাংসদ পাপ্পু যাদব। প্রতিবাদস্থলে রাখা একটি দানবাক্সের কাছে ভগবান রামের ছবি নিয়ে তাঁকে বসে থাকতে দেখা যায়।
নাটক চলাকালীন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য বিরোধী সাংসদরা সেই প্রতীকী দানবাক্সে টাকা দেন। আর পাপ্পু যাদব মন্দিরের তহবিলের কথিত অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরতে প্রতীকীভাবে সেই দান করা টাকা নিজের পকেটস্থ করেন। এই প্রতিবাদ চলাকালীন “চাঁদা চোর, গদ্দি ছোড়,” “জবাব তোমাকে দিতে হবে,” এবং “অমিত শাহ, সদনে এসো”-র মতো স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর।
বিরোধীদের যুক্তি
সমালোচনার ঝড় উঠলেও এই প্রতিবাদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব। রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের দিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই যে এই প্রতিবাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি।
ধর্মেন্দ্র যাদব বলেন, “অযোধ্যায় সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা তুলে ধরার জন্যই এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ ছিল। দেশের সাধারণ ভক্তরা ভক্তিভরে অনুদান দিয়েছিলেন, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে বহু ক্ষেত্রেই রসিদ দেওয়া হয়নি এবং ঘটনার জেরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যন্ত মুছে ফেলা হয়েছে। আমরা সংসদে এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা দাবি করছি।”
তবে বিরোধী শিবিরের এই সাফাই সত্ত্বেও পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে।