দিল্লির বিষাক্ত বাতাসের আসল রহস্য ফাঁস! গ্রীষ্ম আর শীতে ঠিক কোন কোন কারণে হাসফাঁস করে রাজধানী? জানাল কেন্দ্র!

রাজধানী দিল্লির বায়ুর মান বছরের বেশিরভাগ সময়ই খারাপ থাকে। বিশেষ করে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ক্রমবর্ধমান এই বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও তা প্রায়শই অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়। সম্প্রতি রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানিয়েছেন যে, গ্রীষ্মকালে মূলত বাড়িঘর নির্মাণ ও ভাঙার কাজের কারণে এবং শীতকালে ধোঁয়ার কারণে দিল্লিতে দূষণের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পায়।
দিল্লিতে ক্রমবর্ধমান দূষণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ২০১৮ সালে ‘দিল্লি-এনসিআর-এ পিএম২.৫ এবং পিএম১০-এর প্রধান উৎস শনাক্ত করার জন্য উৎস বিভাজন সমীক্ষা’ পরিচালিত হয়েছিল। সম্প্রতি সেই সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করেই দিল্লির দূষণের ঋতুভিত্তিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে কেন্দ্র।
গ্রীষ্মকালে দূষণের সবচেয়ে বড় কারণ নির্মাণকাজ
কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালে দিল্লির বায়ু দূষণের প্রধান কারণ হলো ধুলোবালি এবং নির্মাণ ও ভাঙার কাজ।
নির্মাণ ও ধুলোবালি: গ্রীষ্মে এটি মোট দূষণের প্রায় ২৫ থেকে ৩১ শতাংশের জন্য দায়ী।
পরিবহন: দ্বিতীয় সর্বাধিক সাধারণ কারণ হলো যানবাহন চলাচল, যা মোট দূষণের ১৮ থেকে ২১ শতাংশ বাড়ায়।
গ্যাস ও অন্যান্য নির্গমন: পরিবহন, শিল্প ও জৈববস্তু পোড়ানো থেকে নির্গত গ্যাস ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ দূষণ ঘটায়।
বর্জ্য ও শিল্প: কঠিন বর্জ্য, গৃহস্থালীর আবর্জনা এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো থেকে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ দূষণ হয়। এর পরেই রয়েছে শিল্পকারখানার নির্গমন, যা ৯ থেকে ১৫ শতাংশ দূষণের জন্য দায়ী।
শীতকালে ধোঁয়া এবং পরিবহনই সবচেয়ে বেশি দায়ী
শীতকালের চিত্রটা কিছুটা আলাদা। এই সময়ে দূষণের ধরন ও কারণ বদলে যায়:
গ্যাস ও পরিবহন: শীতকালে পরিবহন, শিল্প ও জৈববস্তু পোড়ানোর ফলে উদ্ভূত গ্যাস সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২৪ থেকে ২৮ শতাংশ দূষণের জন্য দায়ী। একা সড়ক যানবাহনের ধোঁয়া বা পরিবহন দূষণই ১৯ থেকে ২৪ শতাংশ অবদান রাখে।
বর্জ্য ও খড় পোড়ানো: পৌরসভার কঠিন বর্জ্য, গৃহস্থালীর আবর্জনা এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো শীতকালে বাতাসকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে, যা মোট দূষণের ১৭ থেকে ২৩ শতাংশ সৃষ্টি করে।
নির্মাণ ধুলো: গ্রীষ্মের তুলনায় শীতে রাস্তার ধুলো, মাটির ধুলো এবং নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলোর উপদ্রব কিছুটা কম থাকে, যার পরিমাণ ১০ থেকে ১৮ শতাংশ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও সিএকিউএম-এর প্রতিবেদন
এর আগে রাজধানীর এই ক্রমাবনতিশীল ও ‘গ্যাস চেম্বার’-এ পরিণত হওয়া পরিস্থিতি সংক্রান্ত একটি পিটিশনের (১৩০২৯/১৯৮৫) শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট ‘জাতীয় রাজধানী অঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকার বায়ুমান ব্যবস্থাপনা কমিশন’কে (CAQM) দিল্লির বায়ু দূষণের প্রধান কারণগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছিল।
শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই সিএকিউএম ‘দিল্লি-এনসিআর-এ বায়ুর গুণমান অবনতির কারণ চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক বায়ু বিশেষজ্ঞদের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই রিপোর্টেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে দিল্লির দূষণের কারণগুলোও বদলায় এবং এর নেপথ্যে রয়েছে বহুমুখী উৎস।