উদ্বোধনেই তাক লাগাবে অন্ধ্রপ্রদেশের নতুন বিমানবন্দর! মোদীর হাতে কবে শুরু হচ্ছে বোকাভারম প্রজেক্ট?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামীকাল শনিবার, ১ আগস্ট অন্ধ্রপ্রদেশের ভোগারামে নবনির্মিত ‘আল্লুরি সিতারামা রাজু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে চলেছেন। প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরটি চালু হওয়ার ফলে বিশাখাপত্তনম, বিজয়নগরম এবং শ্রীকাকুলাম জেলার বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বদলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকাল প্রায় ১০:৪৫ নাগাদ একটি বিশেষ বিমানে বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকবেন অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপাল এস আবদুল নাজির এবং মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। উদ্বোধনের পর তিনি বিমানবন্দরের টার্মিনালটি ঘুরে দেখবেন এবং পরবর্তীতে একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে এই বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বছরে ৬০ লক্ষ যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতা:
এই বিমানবন্দরের প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যার বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৬০ লক্ষ। তবে ভবিষ্যতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এর মাস্টার প্ল্যান এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ধাপে ধাপে এর ক্ষমতা বছরে চার কোটিতে উন্নীত করা সম্ভব হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে বিমানবন্দরটি তৈরি করেছে জিএমআর বিশাখাপত্তনম ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড। প্রায় ২,২০০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য আরও জমি সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, যেখানে একটি এভিয়েশন হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি জিএমআর গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দিয়ে এখানে সফল ট্রায়াল ফ্লাইট বা ভ্যালিডেশন ফ্লাইট সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে রয়েছে ৩,৮০০ মিটার দীর্ঘ একটি সুপরিসর রানওয়ে, যা বোয়িং ৭৭৭, বোয়িং ৭৮৭ এবং এয়ারবাস এ৩৩০-এর মতো বিশালাকার বিমান অনায়াসে ওঠানামা করাতে সক্ষম। এর ফলে ভবিষ্যতে এয়ারলাইনসের পরিকল্পনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এখান থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং কার্গো টার্মিনাল:
নতুন এই টার্মিনালে রয়েছে সেলফ-ব্যাগেজ ড্রপ কাউন্টার, কমন-ইউজ চেক-ইন সিস্টেম, বোর্ডিং ব্রিজ এবং স্বয়ংক্রিয় যাত্রী প্রসেসিং ব্যবস্থা। পুরো চত্বরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নতমানের সার্ভিল্যান্স, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল ও অপারেশনাল মনিটরিং সিস্টেম বসানো হয়েছে।
পাশাপাশি, এখানে একটি ডেডিকেটেড কার্গো টার্মিনাল তৈরি করা হয়েছে যার বার্ষিক হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ২৫,০০০ মেট্রিক টন। বিশেষ করে ওষুধ, সামুদ্রিক মাছ এবং অন্যান্য পচনশীল দ্রব্যের জন্য এখানে কোল্ড-স্টোরেজ বা হিমঘর সুবিধা রাখা হয়েছে। এর ফলে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশের রপ্তানিকারকরা দূরবর্তী কার্গো হাবের ওপর নির্ভরতা থেকে মুক্তি পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, উপকূলবর্তী অঞ্চলের কোনো সি-ফুড বা মাছ সরবরাহকারী দীর্ঘ সড়কপথের ঝামেলা এড়িয়ে এবার এই স্থানীয় বিমানবন্দর দিয়েই তাপমাত্রা-সংবেদনশীল পণ্য সরাসরি বিদেশে পাঠাতে পারবেন।
পর্যটন ও অর্থনীতিতে বড় বদল:
নতুন এই বিমানবন্দরটি চালুর ফলে বিশাখাপত্তনম, আরাকু ভ্যালি, লামাসিংগি এবং পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে যাতায়াতকারী পর্যটকরা দারুণভাবে উপকৃত হবেন। বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এই অঞ্চলে হোটেল ব্যবসা, লজিস্টিক ফার্ম, ওয়্যারহাউস এবং স্থানীয় পরিবহন পরিষেবাগুলির ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিমানবন্দরের টার্মিনালের স্থাপত্য নকশাটি তৈরি করা হয়েছে একটি উড়ন্ত মাছের (Flying Fish) আদলে এবং এর অন্দরে ঐতিহ্যবাহী রঙ্গোলি শিল্পের মোটিফ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে এই বিমানবন্দরের মোট জলের চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ মেটানো হবে রিসাইকেল করা জল ব্যবহার করে। উল্লেখ্য, এই বিমানবন্দর উদ্বোধন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর এই সফরে প্রায় ১৭,৯০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন।