মাঝখান থেকে ভাঙা, নদীর জল ছুঁয়ে রয়েছে রাস্তা! এই বিপজ্জনক সেতু পার হওয়ার সাহস আছে?

আপনি কি কখনো মাঝখান থেকে ভেঙে পড়া, নদীর জল ছুঁয়ে থাকা কোনো রাস্তা বা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সাহস করেছেন? সম্ভবত না! কিন্তু গ্রিস থেকে সম্প্রতি এমন একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও সামনে এসেছে, যা দেখলে আপনার মেরুদণ্ড দিয়ে শীতল স্রোত বইয়ে দেবে। আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েক বছর আগেই ভেঙে পড়া এবং বন্ধ ঘোষণা করা সত্ত্বেও এই সেতুটির ওপর দিয়ে যান চলাচল এক মুহূর্তের জন্যও থামেনি। কেন মানুষ নিজেদের জীবন এভাবে বিপন্ন করছেন, তা জানলে অবাক হতে হয়।

অডিটি সেন্ট্রালের তথ্য অনুযায়ী, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গ্রিসের থেসালি অঞ্চলে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে হারিকেন ড্যানিয়েল গ্রিস, বুলগেরিয়া এবং তুরস্কে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। সেই ভয়াবহ বন্যায় গ্রিসের থেসালি অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে ৭৯টি সেতু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি ছিল পালাইওপির্গোস সেতু, যা প্রবল বেগে মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে। টেম্পি ও আগিয়া পৌরসভাকে সংযোগকারী এই সেতুটি একসময় স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ ছিল। বর্তমানে সেতুটি মাঝখান দিয়ে এতটাই দেবে গেছে যে, এর নিচ দিয়ে বয়ে চলা পাইনিওস নদীটি সেতুর মাত্র কয়েক ইঞ্চি নিচে অবস্থান করছে। ২০২৩ সালেই এটি যান চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, প্রশাসন সতর্কীকরণ চিহ্ন লাগালেও রাস্তাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য কোনো ব্যারিকেড বা গার্ডরেল বসায়নি, এমনকি সেতুটিও মেরামত করা হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা সামান্য পথ ও সময় বাঁচানোর আশায় সমস্ত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বেপরোয়াভাবে এটি ব্যবহার করে চলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই সেতুটি ব্যবহার না করলে অনেক ঘুরে একটি দীর্ঘ বিকল্প পথ ধরতে হয়, যার ফলে মূল্যবান সময় ও জ্বালানি দুটোই অপচয় হয়। সম্প্রতি ‘লারিসানেট ডেইলি’ নামক সংবাদপত্রের একটি ড্রোন ফুটেজ ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে। ওই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, একটি বিশাল ফোর্ড রেঞ্জার গাড়ি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওই ভাঙা ও দেবে যাওয়া সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার করছে। দৃশ্যটি কোনো বিপজ্জনক ভিডিও গেমের মতো মনে হলেও চালক অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তা পার হয়ে যান।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে নেভিগেশন অ্যাপগুলি। গুগল ম্যাপস এবং অন্যান্য নেভিগেশন অ্যাপ প্রায়শই অজান্তে পর্যটকদের ঠিক এই ভাঙা সেতুটির দিকেই নির্দেশ করে নিয়ে আসে। ফলে পর্যটকরা যখন মাঝপথে এসে এই সেতু ও সতর্কবার্তা দেখতে পান, তখন তাদের সামনে মাত্র দুটি পথ খোলা থাকে—হয় অনেকটা রাস্তা ঘুরে ফিরে যাওয়া, অথবা স্থানীয়দের দেখাদেখি এই বিপজ্জনক সেতু পার হয়ে চরম জীবনের ঝুঁকি নেওয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *