‘কোন দলে আছি নিজেই জানি না!’ ইডি জেরার পরেই রাজনীতি ছাড়ার কথা কেন বললেন মদন মিত্র?

গত কয়েক দশক ধরে বাংলার রাজনীতিতে এক পরিচিত ও বর্ণময় মুখ মদন মিত্র (Madan Mitra)। সামলেছেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বও। দলের বড় বড় নেতারা নির্বাচনে পরাস্ত হলেও কামারহাটির মতো কঠিন আসনে নিজের দুর্গ অটুট রেখেছেন তিনি। তবে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে নাম লেখানোর মাত্র পনেরো দিনের মাথায় চরম হতাশা থেকে রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন এই প্রবীণ বিধায়ক। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে মদন মিত্র অকপটে জানিয়েছেন, রাজনীতি নিয়ে তাঁর মোহভঙ্গ ঘটেছে। সাংবাদিকতা বা অধ্যাপনার পেশা বেছে নিলে জীবন অনেক ভালো হতো বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, রাজনীতির বর্তমান পরিবেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, দিন দিন রাজনীতির প্রতি তাঁর মনে এক ধরণের ঘৃণা জন্ম নিচ্ছে।
সম্প্রতি শিবির বদল করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক। আর এই পটপরিবর্তনের পরই মদন মিত্র ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে ইডি-র নোটিস আসে। গত বুধবার টানা সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে ইডি-র কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে হাজিরা দেন তিনি। এরপর ‘টিভি৯ বাংলা’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের মনের গভীর হতাশা ও ক্ষোভের কথা খোলাখুলি প্রকাশ করেন এই নেতা।
রাজনীতিবিদদের সামাজিক সম্মান ও মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মদন মিত্র বলেন, “আগে রাজনীতিবিদদের বিয়েবাড়িতে ডাকলে তার একটা আলাদা মর্যাদা থাকত। মানুষ দেখলেই সম্মান জানাত, প্রণাম করত। আর এখন তো বিয়েবাড়িতেও ঠিকমতো নিমন্ত্রণ করে না। রাজনৈতিক মূল্যবোধ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।” আক্ষেপের সুরে বর্ষীয়ান এই নেতা আরও যোগ করেন, “এখন মনে হয়, যদি সাংবাদিকতা করতাম কিংবা প্রফেসারি করতাম, তাহলে অনেক ভালো হতো। যত দিন যাচ্ছে, রাজনীতির ওপর এক অদ্ভুত ঘৃণা তৈরি হচ্ছে। নিজের কাছেই প্রশ্ন জাগে, এতগুলো বছর ধরে কীভাবে এই রাজনীতি করে গেলাম!”
সাক্ষাৎকারের শেষে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্পূর্ণ স্পষ্ট ভাষায় মদন মিত্র বলেন, “এবার নির্বাচনে না জিতলে আমি পাকাপাকিভাবে রাজনীতি ছেড়েই দিতাম। আমি মানসিকভাবে এখন সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছি। আমার আর কিচ্ছু ভালো লাগছে না। একটা মারাত্মক সাফোকেশন বা দমবন্ধ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, আমার ব্রিদিং প্রবলেম হচ্ছে। সত্যি বলতে, আমি এখন কোন দলে রয়েছি, সেটাই নিজেই আর বুঝতে পারছি না। আমি ভীষণভাবে হতাশ।”