পুরনো গাড়িতে E20 পেট্রোল দিলেই কি ইঞ্জিন নষ্ট হবে? সমস্ত জল্পনার কড়া জবাব দিল কেন্দ্র!

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (Ethanol Blended Petrol বা E20) জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। তবে এই সমস্ত ভুয়া দাবির অত্যন্ত কড়া জবাব দিল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-র প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত তথ্য তুলে ধরে জ্বালানি সংক্রান্ত সমস্ত ভুল ধারণা এক লহমায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
পুরনো গাড়িতে ইঞ্জিন নষ্টের জল্পনা ও বাস্তবতা:
সবচেয়ে বড় যে গুজবটি ছড়িয়েছিল, তা হলো— ২০২৩ সালের আগে তৈরি হওয়া গাড়িগুলিতে নাকি E20 পেট্রোল একেবারেই চলবে না এবং এর ফলে গাড়ির ইঞ্জিনের ব্যাপক ক্ষতি হবে। কিন্তু সরকারি তথ্য এই দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিচ্ছে। দেশের রাস্তায় গত সাড়ে তিন বছর ধরে E15+ এবং আড়াই বছর ধরে E20 জ্বালানি সফলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের রাস্তায় ২০ কোটিরও বেশি টু-হুইলার এবং ৩ কোটিরও বেশি পেট্রোল চালিত চার চাকা গাড়ি এই জ্বালানিতেই চলেছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ইথানলের কারণে ব্যাপক হারে ইঞ্জিন খারাপ হওয়া বা গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা গ্রাহকদের তরফ থেকেও কোনো বড় অভিযোগ সামনে আসেনি।
ধাপে ধাপে রূপায়ণ ও অটোমোবাইল সংস্থার আস্থা:
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দেশের ইথানল মিশ্রণের হার ২০১৩-১৪ সালের মাত্র ১.৫৩% থেকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ২০ শতাংশে (E20) উন্নীত করা হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলিও এই জ্বালানির কার্যকারিতায় সম্পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে।
দেশের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা মারুতি সুজুকি জানিয়েছে, গত অর্থবর্ষে তাদের সার্ভিস সেন্টারে আসা প্রায় ২.৮৪ কোটি গাড়ি (যার মধ্যে ১.৫ কোটিই পুরনো মডেল) পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ইথানল সংক্রান্ত কোনো ক্ষয় বা যন্ত্রাংশের আয়ু কমার মতো কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। এছাড়া টয়োটা, হিরো মোটোকর্প, হুন্ডাই, টিভিএস এবং বাজাজ অটোর মতো শীর্ষস্থানীয় সংস্থাও পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, E20 জ্বালানির কারণে ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতির দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন।
মাইলেজ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ:
গাড়ির মাইলেজ কমে যাওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির মতে সেই পতন অত্যন্ত নগণ্য— বড়জোর মাত্র ৩ থেকে ৩.৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গাড়ির প্রকৃত মাইলেজ মূলত নির্ভর করে টায়ারের সঠিক হাওয়া বা চাপ (Tyre Pressure), রাস্তার ট্রাফিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গাড়ি চালানোর ধরনের ওপর। উল্টোদিকে, E20 জ্বালানি ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বাড়ে, ইঞ্জিন আরও মসৃণভাবে কাজ করে এবং পরিবেশের দূষণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। নিয়ম মেনে চলা বা নির্দেশিকা মান্যকারী গাড়িগুলির ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি তাদের মূল ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টিও বহাল রেখেছে। তাই ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে চালক ও গ্রাহকদের অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়েছে মন্ত্রক।