‘পুলিশকে চাকরি হারাতে হবে!’ মাঝরাতে সোজা থানায় ঢুকে এসএইচও-কে চরম হুঁশিয়ারি প্রশান্ত কিশোরের

বিহারের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র। ভোটের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে মধ্যরাতে পাটনায় তৈরি হল চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। জন সুরাজ পার্টি (জেএসপি)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা বাঁকিপুরের প্রার্থী প্রশান্ত কিশোর সোজা হাজির হলেন জাক্কানপুর থানায়। পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর দলীয় কর্মীদের বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
১. মধ্যরাতে থানা ঘেরাও ও চরম উত্তেজনা
বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছিল আগেই। তবে ভোটের আগের রাতে পরিস্থিতি পুরোপুরি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। প্রশান্ত কিশোরের অভিযোগ, শাসক দলের হারের ভয় থেকেই পুলিশকে ব্যবহার করে তাঁর দলের অন্তত ১৬ জন কর্মী-সমর্থককে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে। এই খবর পেয়েই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জাক্কানপুর থানায় চড়াও হন পিকে। থানার ভেতরেই এসএইচও ঋতুরাজ কুমার সিংহের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাক্বিতণ্ডা বাধে, যার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল।
২. এসএইচও-কে সরাসরি হুঁশিয়ারি প্রশান্ত কিশোরের
থানায় উত্তপ্ত যুক্তিতর্কের সময় প্রশান্ত কিশোর সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর আটক দলীয় কর্মীদের কোনো ধরনের ক্ষতি হলে তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে জাক্কানপুর থানার এসএইচও ঋতুরাজ কুমার সিংহকে এবং তাঁকে চাকরি হারাতে হবে। পিকে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ধৃত কর্মীদের কোথায় রাখা হয়েছে তার কোনো সদুত্তর পুলিশ দিতে পারেনি এবং সমস্ত নিয়ম লঙ্ঘন করে তাঁদের বিভিন্ন থানায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
৩. বিজেপির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অপব্যবহারের অভিযোগ
প্রশান্ত কিশোরের দাবি, এই উপনির্বাচনে শোচনীয় হারের মুখোমুখি হবে জেনেই শাসক দল বিজেপি পুলিশ প্রশাসনকে হাতিয়ার করেছে। তাঁর অভিযোগ, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করেই ২৪ ঘণ্টা বা ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁর সমর্থকদের বেআইনিভাবে আটকে রাখার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ভোটের প্রাক্কালে বিরোধী প্রার্থীর এমন হুংকার ও থানা ঘেরাওয়ের ঘটনায় গোটা বিহারের রাজনীতিতে এখন তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।