শিলিগুড়িতে তৃণমূল জমানার দুর্নীতির ‘মরিচঝাপি’ খুলছে? মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের হুঙ্কারে কাঁপছে রাজনৈতিক মহল!

পালাবদলের আবহ কাটতে না কাটতেই এবার শিলিগুড়িতে বিগত শাসকদলের জমানার দুর্নীতি ফাঁস করার জোরালো ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। বুধবার এক বিস্ফোরক মন্তব্যে তিনি সরাসরি নিশানা করেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের তৎকালীন বোর্ড ও মেয়রের কাজকর্মকে। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম নেননি, তবে রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট ধারণা, তাঁর মূল নিশানায় ছিলেন প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা গৌতম দেব।
বিল্ডিং বিভাগ ও হোর্ডিংয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতি:
এদিন শঙ্কর ঘোষ শিলিগুড়ির উন্নয়ন ও প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে মুখ খুলে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৎকালীন শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের কাজকর্ম নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তোলেন তিনি। মন্ত্রীর অভিযোগ, এক প্ল্যান পাস করিয়ে অন্য প্ল্যানে বাণিজ্যিক বহুতল তৈরি করা হয়েছে, কিংবা নিয়মের বাইরে গিয়ে চার তলার জায়গায় পাঁচ তলা বা তার বেশি নির্মাণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, শুধু আবাসন নির্মাণই নয়, হোর্ডিং কেলেঙ্কারির অভিযোগও তুলেছেন শঙ্কর ঘোষ। তাঁর দাবি, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শহরের বুকে বড় বড় হোর্ডিং বসানো হয়েছে এবং এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ মুনাফা লুটেছেন অনেকে। এই সমস্ত বেনিয়মের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তদন্ত কমিটি ও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত:
দুর্নীতির অভিযোগে লাগাম টানতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “যিনি অন্যায় করবেন, তিনি আইনগত শাস্তি পাবেন।” তবে অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্য রাখার পর্যাপ্ত সুযোগও দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, আগামী ১ আগস্ট এই সংক্রান্ত বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে শিলিগুড়ি যাচ্ছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এই বৈঠকের পরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড়সড় কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।