মহিলাদের জন্য মেগা উপহার! ১-২ হাজার নয়, এবার সরাসরি ৩০ হাজার টাকা পাবেন মহিলারা

মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে এবং তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে প্রশাসন। বিভিন্ন রাজ্যে মহিলাদের জন্য নানা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে। যেমন, নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করেছে, যেখানে মাসে মাসে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে। ঠিক এই আবহেই মহিলাদের জন্য আরও এক বিরাট বড় আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করল দিল্লি সরকার।

দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা ও বাজেট বরাদ্দ
দিল্লি সরকারের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, এবার থেকে আর ১-২ হাজার টাকা নয়, মহিলারা সরাসরি প্রতি বছর ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। ‘দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা’ (Delhi Lakshmi Yojana)-র আওতায় উপভোক্তা মহিলারা প্রতি মাসে ২৫০ সি (বা ২৫০০ টাকা) করে আর্থিক সাহায্য পাবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই সরকার এই প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে এবং এই মহাপ্রকল্পটি সফলভাবে রূপায়িত করতে মোট ৫,১১০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু মাসিক হাতখরচ বা আর্থিক সহায়তা প্রদানই নয়, বরং এর মাধ্যমে মহিলাদের ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও বিভিন্ন বিনিয়োগেও উৎসাহিত করা হবে।

কারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন? (যোগ্যতার শর্তাবলী)
দিল্লি সরকারের এই লাভজনক প্রকল্পে আবেদন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে:

বয়সসীমা: আবেদনকারী মহিলাকে অবশ্যই ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।

বার্ষিক আয়: মহিলার পরিবারের বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম হওয়া আবশ্যক।

পরিবার পিছু সুবিধা: একটি পরিবার থেকে শুধুমাত্র একজন মাত্র মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। একই পরিবারে একাধিক যোগ্য মহিলা থাকলে তাঁদের মধ্যে সবথেকে বেশি বয়সের মহিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বাসিন্দা: আবেদনকারী মহিলা কিংবা তাঁর স্বামী অথবা বাবা-মাকে অন্তত ১০ বছর ধরে দিল্লির স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না? (বর্জনের শর্ত)
কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের কারণে বেশ কিছু পরিবার এই প্রকল্পের আওতা থেকে বাদ পড়বে:

পরিবারের কোনো সদস্য আয়কর (Income Tax) দিলে এই সুবিধা মিলবে না।

যাঁদের তিনটির বেশি সন্তান রয়েছে।

যে সমস্ত পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচ ২৪০০ ইউনিটের বেশি।

যে পরিবারে নিজস্ব চার চাকা গাড়ি রয়েছে।

যাঁরা ইতিপূর্বে অন্য কোনো সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছেন।

পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী হলে কিংবা সরকারি পেনশনভোগী হলে এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *