‘গণতন্ত্রে প্রতিবাদ মানেই অপরাধ নয়!’ ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশি লাঠিচার্জ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মহা-রায়ে তোলপাড়!

ছাত্র বিক্ষোভ ও নিট (NEET) পরীক্ষার প্রতিবাদ চলাকালীন পুলিশের লাঠিচার্জ এবং মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে এবার কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ছাত্র বিক্ষোভের সময় যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে এবং হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; তেমনই বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের যত্রতত্র বলপ্রয়োগ ও বাড়াবাড়ির অভিযোগের একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়াও অত্যন্ত জরুরি।
আদালত জানিয়েছে, এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলা একত্রিত করে একসঙ্গে শুনানি হবে এবং আগামী ৩ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বনাম অনাহূত হিংসা
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক সীমার মধ্যেই ছিল। তবে এই ধরনের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সবসময়ই কিছু বহিরাগত বা অনাহূত অতিথি নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্যে ঢুকে পড়ে সহ-আয়োজক হয়ে ওঠে। ২৫০ জন পুলিশকর্মীর ওপর হামলাগুলো সত্যিই ছাত্ররা চালিয়েছিল নাকি কোনো দাঙ্গাবাজ দল ঘটিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। পুরো ঘটনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠনের ইঙ্গিতও দিয়েছে আদালত।
আইনজীবীদের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন, শ্যাম দিভান এবং শোয়েব আলমদের পক্ষ থেকে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়:
পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ: দিল্লিতে পেলেট গান ও ইলেকট্রিক ব্যাটন ব্যবহারের ফলে ১৯ বছর বয়সি এক যুবকের অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে এক তরুণীকে আইসিইউতে ভর্তি করা এবং পেরেকযুক্ত লাঠি ব্যবহারের মতো নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে। সাদাপোশাকের পুলিশকর্মীদের মারধর এবং এক তরুণীকে বিনা উস্কানিতে চড় মারার সচিত্র ও ভিডিও প্রমাণও আদালতে পেশ করা হয়েছে। এমনকি বিহারে এক পুলিশ সদস্যের একে-৪৭ ব্যবহারের ঘটনা এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রসঙ্গও উঠে আসে।
নাবালক আটকের অভিযোগ: আইনজীবী শাদান ফারাসাত আদালতকে জানান যে, বিহারে এফআইআর প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও এখনও ১৫০ জনের বেশি নাবালক পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাদের আটকে রাখা এবং ১৩ বছরের এক বালককে হেনস্থা করার মতো অভিযোগও সামনে এসেছে।
বিচারপতিদের মন্তব্য: প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, গণতন্ত্রে পুলিশের প্রোটোকল এবং বলপ্রয়োগের নিয়ম নিয়ে নতুন করে গাইডলাইন তৈরি করার সময় এসেছে। ২০১৮ সালের নির্দেশিকা বর্তমান পরিস্থিতিতে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা খতিয়ে দেখা হবে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তদন্ত হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ, এবং অপরাধী যেই হোক না কেন—আইন নিজের গতিতে চলবে।