৩ বছর অপেক্ষার অবসান! কুয়েত-পাকিস্তানের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে শোরগোল!

দীর্ঘ প্রায় তিন বছর অপেক্ষার পর অবশেষে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে কুয়েত। সম্প্রতি একটি রাজকীয় ফরমান জারির মাধ্যমে চুক্তিটিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ২০২৩ সালের ১১ জুন এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে কুয়েত সরকার এখন এটি পুরোপুরি আইনে পরিণত করল। এর ফলে কুয়েতি ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তিতে কী কী রয়েছে?
১২ দফা সংবলিত এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা শিক্ষা।
গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও উন্নত প্রযুক্তি শেয়ার করা।
রসদ সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির যৌথ বিকাশ।
সংবেদনশীল সামরিক তথ্য ও গোপনীয়তা রক্ষা করা।
বিশেষ এই চুক্তিতে মেধাস্বত্ব অধিকার এবং আর্থিক বিষয়সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নিয়মও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কোনো রকম বিরোধ তৈরি হলে তা তৃতীয় পক্ষ বা আন্তর্জাতিক আদালতে না গিয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে বলে চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
বিলম্ব কেন এবং পাকিস্তানের জন্য এর গুরুত্ব কতটা?
২০২৩ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এটি বাস্তবায়নে প্রায় তিন বছর সময় লাগল। বর্তমান উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কুয়েত সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব জোরদার করার নীতি নিয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতায় যুক্ত রয়েছে। কুয়েতের সঙ্গে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের কৌশলগত ও আঞ্চলিক প্রভাব আরও অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা।