কার্গিল দিবসে পাক বধ! রিংয়ে পাকিস্তানি বক্সারকে ৫-০ ব্যবধানে স্রেফ উড়িয়ে দিলেন ভারতের জাদুমণি!

গ্লাসগোর বক্সিং রিংয়ে মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান। আর দিনটা হল দেশের অত্যন্ত আবেগঘন ও ঐতিহাসিক কার্গিল বিজয় দিবস (Kargil Vijay Diwas)। এমন এক উত্তেজনাকর আবহে পাকিস্তানি বক্সার সুমামা রেহমানকে রিংয়ের লড়াইয়ে কার্যত ধূলিসাৎ করে দিলেন ভারতের প্রতিশ্রুতিমান বক্সার জাদুমণি সিং মানডেংবাম (Jadumani Singh)। রবিবার পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে ৫-০ ব্যবধানে একপেশে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। আর এই জয়ের ঠিক পরপরই ২২ বছরের এই মণিপুরি তরুণ তাঁর সাফল্য উৎসর্গ করলেন কার্গিল যুদ্ধের বীর শহিদদের উদ্দেশে। একইসঙ্গে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস থেকে দেশের জন্য সোনা জয়ের দৃপ্ত অঙ্গীকারও শোনা গেল তাঁর গলায়।
রিংয়ে একচ্ছত্র দাপট, বিচারকদের সর্বসম্মত রায়
রবিবার সারা দেশ যখন ২৭তম কার্গিল বিজয় দিবস পালন করছে, ঠিক সেই দিনেই স্কটল্যান্ডের মাটিতে ইতিহাস গড়ার পথে এক পা বাড়িয়ে দিলেন জাদুমণি। ১৯৯৯ সালের যুদ্ধে শহিদ জওয়ানদের চরম আত্মত্যাগকে স্মরণ করার এই বিশেষ দিনে কমনওয়েলথ গেমসের (CWG 2026) মঞ্চে জ্বলে উঠলেন ভারতীয় বক্সার।
রিংয়ের ভেতরে পাকিস্তানের সুমামাকে থিতু হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগও দেননি তিনি। গোটা বাউট জুড়েই ছিল তাঁর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, ক্ষিপ্র ফুটওয়ার্ক এবং নিখুঁত সব পাঞ্চ। যার ফলস্বরূপ, পাঁচজন বিচারকই সর্বসম্মতভাবে (Unanimous decision) ভারতীয় বক্সারের পক্ষে রায় দেন।
উল্লেখ্য, প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়ে সরাসরি প্রি-কোয়ার্টারে খেলতে নেমেছিলেন পাক বক্সার।
অন্যদিকে, জাদুমণি রাউন্ড অফ ৩২-এর লড়াইয়ে স্কটল্যান্ডের অ্যারন কুলেনকেও ৫-০ ব্যবধানে ধরাশায়ী করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন।
শহিদদের উদ্দেশে জয় উৎসর্গ ও পদকের হাতছানি
বাউট শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের লক্ষ্যের কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন জাদুমণি। আবেগভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি আমার এই জয় কার্গিলের শহিদদের উৎসর্গ করছি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিততে পেরে দারুণ লাগছে। কোয়ার্টার ফাইনালে আরও ভালো পারফর্ম করব। ভারতের জন্য সোনা জয়ই আমার মূল লক্ষ্য।’
আগামী মঙ্গলবার শেষ আটের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে ফের রিংয়ে নামবেন তিনি। সেই ম্যাচে জয়লাভ করতে পারলেই অন্তত একটি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত হয়ে যাবে। কারণ, কমনওয়েলথ গেমসে বক্সিংয়ের নিয়মানুযায়ী সেমিফাইনালে পরাজিত দুই প্রতিযোগীকে ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করা হয়। গত বছর নয়ডায় বিশ্ব বক্সিং কাপ ফাইনালে রুপো জেতা জাদুমণি এবার ওজন বাড়িয়ে ৫৫ কেজি বিভাগে নামলেও তাঁর ফর্ম অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
ভারোত্তোলনেও পদকের ছড়াছড়ি
উল্লেখ্য, শুধু বক্সিংয়েই নয়; রবিবারে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে আরও একাধিক ইভেন্টে দুরন্ত সাফল্য পেয়েছে ভারত। বিশেষ করে ভারোত্তোলকদের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় নজরকাড়া:
মীরাবাঈ ম্যাজিক: মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন অলিম্পিক্সে পদকজয়ী তারকা মীরাবাঈ চানু (Mirabai Chanu)।
রুপোর ঝিলিক: পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে রুপো ছিনিয়ে নিয়েছেন চানামবাম ঋষিকান্ত সিং। পাশাপাশি ৬৫ কেজি বিভাগেও দারুণ পারফর্ম করে দেশের ঝুলিতে আরও একটি রুপো এনে দিয়েছেন রাজা মুথুপাণ্ডি।
বক্সিংয়ে জাদুমণির কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠ এবং ভারোত্তোলকদের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ভারতের পদক তালিকা যে আগামী কয়েক দিনে আরও সমৃদ্ধ হতে চলেছে, সে বিষয়ে চরম আশাবাদী গোটা দেশের ক্রীড়ামহল।