খরচ বাঁচবে, কমবে ঝঞ্ঝাট! সরকারি কর্মচারীদের অ্যাটেনডেন্স সিস্টেমে বড়সড় বদল আনছে রাজ্য

সরকারি কর্মচারীদের অফিসে হাজিরা বা অ্যাটেনডেন্স দেওয়ার দীর্ঘদিনের পদ্ধতিতে এবার বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। আর দফতরে আলাদা করে কোনো বায়োমেট্রিক হার্ডওয়্যার মেশিন বসানোর প্রয়োজন নেই। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্মীরা এখন থেকে সরাসরি অফিস চত্বরের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই নিজেদের মোবাইল ফোনের সাহায্যে হাজিরা নথিভুক্ত করতে পারবেন। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারের কোটি কোটি টাকার খরচ বাঁচবে, অন্যদিকে হাজিরা প্রক্রিয়াও হবে অনেক বেশি সহজ, স্বচ্ছ ও ঝঞ্ঝাটহীন।

কী জানা যাচ্ছে অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি থেকে?
সম্প্রতি অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে এই মর্মে একটি কড়া ও স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাকে যত দ্রুত সম্ভব সবকটি সরকারি দফতরে কার্যকর করতে হবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে তাদের নিজস্ব সফটওয়্যার সলিউশনগুলি দ্রুত খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

সূত্রের খবর, গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দফতরে বায়োমেট্রিক মেশিন বসানোর কাজ শুরু হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগের সমস্যায় সেগুলি প্রায়শই অকেজো হয়ে পড়ে থাকত। এই সমস্যা দূর করতেই নবান্ন এই আধুনিক মোবাইল-ভিত্তিক জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তির (Geo-fencing Technology) পথ বেছে নিয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে এই মোবাইল হাজিরা ব্যবস্থা?
জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি: নতুন এই প্রযুক্তির ফলে দফতরের একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা ‘ফেন্স’ তৈরি করা থাকবে। কর্মীরা কেবল ওই নির্দিষ্ট অফিস চত্বরের ভেতরে থাকাকালীনই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন। বাইরে থেকে হাজিরা দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।

স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা: এর ফলে অফিসে সঠিক সময়ে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ থাকবে। সমস্ত দফতরে দ্রুত এই নির্দেশিকা পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

নবান্নের আগের কড়াকড়ি ও নতুন সমীকরণ
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ জুন থেকে নবান্নে বাধ্যতামূলক ‘ফেস রিকগনিশন’ বা মুখ শনাক্তকারী বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করেছিল রাজ্য। পাশাপাশি ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরেও এই ব্যবস্থা কার্যকর করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, দফতর প্রধানদের বাদ দিয়ে সব কর্মচারীকে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় মেশিনে মুখ স্ক্যান করে উপস্থিতি জানাতে হতো।

সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে অফিসে পৌঁছলে তা ‘লেট’ বা দেরি হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং সকাল ১১টার পর পৌঁছলে সোজা ‘অনুপস্থিত’ (Absent) হিসেবে গণ্য করা হবে। এছাড়া বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস ছাড়লে তা ‘আর্লি ডিপার্চার’ হিসেবে ধরা হতো। তবে এবার বায়োমেট্রিক মেশিনের ঝামেলা কাটিয়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই এই হাজিরা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নতুন পদক্ষেপে সিলমোহর দিল অর্থ দফতর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *