৩৬ দিন পর বিছানায় শুয়ে ভিডিও বার্তা! আন্দোলন প্রত্যাহার করলেই কি আরও বড় ঝড়ের ইঙ্গিত দিলেন অভিজিৎ?

দীর্ঘ ৩৭ দিনের একটানা লড়াইয়ের পর অবশেষে যন্তর মন্তরে ইতি টানল জেন-জি ও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) আন্দোলন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা এবং দাবি পূরণের ঘোষণার পরেই আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে সিজেপি। তবে আন্দোলন সাময়িকভাবে গুটিয়ে নেওয়া হলেও, এটি যে তাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের কেবল একটি ধাপ মাত্র এবং আগামী দিনে আরও বড় কোনো প্রস্তুতির ইঙ্গিত রয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপ।
রবিবাসরীয় সকালে অভিজিতের ভিডিও বার্তা
রবিবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (প্লাটফর্মে) একটি ভিডিও পোস্ট করেন অভিজিৎ দীপ। নিজের বিছানায় শুয়ে করা ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “অনেক দিন পর আজ নিজের ঘরে, নিজের বিছানায় আরাম করে ঘুম ভাঙল। আজ আর কোনো চিন্তা নেই, সন্ধ্যায় নতুন কী আপডেট আসবে বা এরপর কী হবে—সেই প্যানিকটাও আজ নেই। গত ৩৭টা দিন আমাদের জন্য বড্ড কঠিন সময় কেটেছে, যা মোটেই সহজ ছিল না।” পাশাপাশি, এই দীর্ঘ লড়াইয়ে যাঁরা পাশে ছিলেন এবং যাঁরা তাঁদের ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককেই ধন্যবাদ জানান তিনি।
শরীর খারাপ নিয়েই যন্তর মন্তর ছাড়েন অভিজিৎ
ভিডিওতে অভিজিৎ আরও জানান, টাইফয়েড ও জ্বরে আক্রান্ত থাকার কারণে তিনি শনিবার যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়ে সকলকে সাকুল্যে ধন্যবাদ জানাতে পারেননি। তাই দ্রুত বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হন। ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে যাঁরা নাছোড়বান্দা আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের কুর্নিশ জানিয়ে তিনি সাফ বলেন, “এটা তো সবে শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির আরও অনেক দূর পথচলা বাকি রয়েছে।”
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা ও দাবি পূরণ
উল্লেখ্য, নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যান দেশের জেন-জি ও পড়ুয়ারা। এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেয় ককরোচ জনতা পার্টিও, যাঁদের পাশে দাঁড়ান দেশের একাধিক বিরোধী নেতা এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তীব্র চাপের মুখে পড়ে অবশেষে শনিবারই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। তাঁর পরিবর্তে প্রহ্লাদ যোশীকে নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সিজেপির দাবি ছিল প্রধানত তিনটি—শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের নামে দায়ের হওয়া সমস্ত পুলিশি মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের জেরে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া। কেন্দ্রীয় সরকার এই সমস্ত দাবি মেনে নেওয়ায় যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলন তুলে নেওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা করে ককরোচ জনতা পার্টি।