৬৪৯ দিন পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন! প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ মায়াঙ্ক যাদব উৎসর্গ করলেন কাকে?

দীর্ঘ ৬৪৯ দিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই বল হাতে ঝড় তুললেন ভারতের তরুণ পেসার মায়াঙ্ক যাদব। জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই জোড়া উইকেট শিকার করে তিনি শুধু ম্যাচ জেতাননি, বরং নিজের প্রথম ম্যাচেই ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’-এর পুরস্কার অর্জন করে নিলেন। মায়াঙ্কের এই স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেওয়া এবং নিজের ৪ ওভারে মোট ১৭টি ডট বল উপহার দেওয়া। দীর্ঘ দুই বছর চোটের সঙ্গে লড়াই করে এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে চরম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এই স্পিডস্টার। সেই সঙ্গে প্রকাশ করেছেন তাঁর কঠিন দিনগুলোর লড়াই এবং পর্দার পেছনের আসল নায়কের কথা।
কে এই ‘রজনী স্যার’, যাঁকে পুরস্কার উৎসর্গ করলেন মায়াঙ্ক?
ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়ার পর মায়াঙ্ক যাদব তা উৎসর্গ করেন বিসিসিআই-এর সেন্টার অফ এক্সিলেন্স (CoE)-এর কোচ রজনী স্যার-কে। ঠিক কী পরিস্থিতি ছিল? ২০২৪ সালে যখন একের পর এক চোটে জর্জরিত হচ্ছিলেন মায়াঙ্ক, ঠিক তখনই তাঁর পিঠে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে এবং অস্ত্রোপচারও হয়। এরপর রিহ্যাব ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার জন্য তিনি সিওইতে যান।
সেই কঠিন সময়ে মায়াঙ্কের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন রজনী স্যার। যখন বোলিং করার সময় মায়াঙ্ক শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন, তখন তাঁকে মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে সাহায্য করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন এই প্রশিক্ষক। তাই কৃতজ্ঞতাবশত কেরিয়ারের এই বিশেষ মুহূর্তটি তাঁকে উৎসর্গ করেন মায়াঙ্ক।
১৫০ কিমি গতিতে আগুন ঝরালেন মায়াঙ্ক
দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে প্রথম ওভারেই প্রায় ১৫০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বল করেছেন মায়াঙ্ক। ইনজুরি থেকে ফিরে আসার পর এত উচ্চ গতিতে বোলিং করা মুখের কথা নয়। একজন বোলার তখনই এমনটা করতে পারেন যখন তিনি শতভাগ ফিট থাকেন। আর মাঠে মায়াঙ্কের ছান্দসিক বোলিং অ্যাকশন ও গতি দেখে পরিষ্কার বোঝা গিয়েছে যে তিনি এখন সম্পূর্ণ ফিট।
সমালোচকদের মুখে কুলুপ আঁটলেন স্পিডস্টার
টিম ইন্ডিয়ায় মায়াঙ্কের সুযোগ পাওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, বারবার আনফিট হয়ে যাওয়া একজন খেলোয়াড় কীভাবে বারবার জাতীয় দলে জায়গা পাচ্ছেন? বিশেষ করে আইপিএল ২০২৬ মরশুমে তিনি মাত্র ৪টি ম্যাচ খেলে একটিও উইকেট পেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, যা তাঁর কেরিয়ারে এই প্রথমবার ঘটেছিল।
বিসিসিআই-এর সঙ্গে কথোপকথনে মায়াঙ্ক নিজেই এই ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেন। আইপিএলের সেই হতাশা ভুলে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সমালোচকদের সমস্ত জল্পনা ও প্রশ্নের মোক্ষম জবাব দিয়ে দিলেন এই উদীয়মান ফাস্ট বোলার।