বাংলায় শুরু হতে চলেছে ওয়াটার ট্যাক্সি, কোন কোন রুটে মিলবে এই পরিষেবা?

রাজধানী ও শহরতলির ক্রমবর্ধমান যানজট কমাতে এবং সড়ক পথের উপর থেকে যাত্রীদের চাপ কমাতে এবার জলপথকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যে চালু হতে চলেছে ওয়াটার ট্যাক্সি (Water Taxi) পরিষেবা। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের দুটি রুটে এই পরিষেবা চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। একটি রুট হলো ব্যারাকপুর থেকে বাবুঘাট এবং অপরটি বাবুঘাট থেকে মেটিয়াবুরুজ পর্যন্ত। এর পাশাপাশি আগামী দিনে দূরপাল্লার ভেসেল বা জলযান চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।
শুক্রবার ভাটপাড়ার গোলঘর পার্কে একটি খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী।
কেরলের কোচীর সাফল্যের পর বাংলায় উদ্যোগ
এর আগে দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরলের কোচিতে প্রথম সফলভাবে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছিল। তার অভূতপূর্ব সাফল্য দেখে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের প্রায় ১৮টি শহরে এই আধুনিক জলযান পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সেই তালিকার মধ্যে গুয়াহাটি, শ্রীনগর, পাটনা, বারাণসী, অযোধ্যা, প্রয়াগরাজ, তেজপুর ও ডিব্রুগড়ের মতো শহরগুলি রয়েছে। এর আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুিত অধিকারীও নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো বা ওয়াটার ট্যাক্সি চালুর জোরালো উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন।
কেন এই ওয়াটার ট্যাক্সি পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে জলপথে যাতায়াতের এক দীর্ঘ ও ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস রয়েছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ নদী পারাপার ও যাতায়াত করেন। নতুন করে ওয়াটার ট্যাক্সি বা ওয়াটার মেট্রো চালু হলে শহরের তীব্র যানজট যেমন অনেকাংশেই কমবে, তেমনই সাধারণ মানুষের জন্য একটি দ্রুত ও শক্তিশালী বিকল্প গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
এই আধুনিক জলযানগুলির প্রধান সুবিধাগুলি কী কী?
-
এগুলি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ব্যাটারিচালিত এবং ইলেকট্রিক হাইব্রিড জলযান।
-
নির্দিষ্ট জেটি বা টার্মিনাল থেকে অত্যন্ত নিয়মিতভাবে এগুলি চলাচল করবে।
-
যাত্রীদের সুবিধার জন্য থাকবে স্মার্ট কার্ড এবং কিউআর কোড (QR Code) ভিত্তিক ডিজিটাল টিকিট কাটার ব্যবস্থা।
-
সড়কপথের উপর গাড়ির অতিরিক্ত চাপ ও ভিড় কমানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।