মেমারিতে নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে চরম নির্যাতন! অচৈতন্য অবস্থায় উঠোনে ফেলে পালাল দুষ্কৃতীরা

পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানা এলাকায় এক নাবালিকাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। অন্যদিকে, নির্যাতিতা নাবালিকা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার:
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে বাড়িতে মা ও মেয়ে ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। সেই সময় নাবালিকা শৌচালয়ে গেলে কয়েকজন দুষ্কৃতী জোর করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। অভিযোগ, একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। এরপর অত্যাচারের ফলে নির্যাতিতা অচৈতন্য হয়ে পড়লে তাকে বাড়ির উঠোনে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে পাহাড়হাটি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

পুলিশি তদন্ত ও গ্রেফতারি:
পরিবারের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে মেমারি থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে মেমারি এলাকারই বাসিন্দা দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে ওই নাবালিকার বিয়ে হয়েছিল। প্রেমের সম্পর্কের জেরে পাশের বাড়ির এক যুবককে সে বিয়ে করলেও মাত্র তিন মাসের মধ্যে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং তারপর থেকেই সে বাপের বাড়িতে থাকত। পরিবারের দাবি, এরপর থেকেই বেশ কয়েকজন যুবক তাকে নানাভাবে উত্যক্ত করত। সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান এই অপরাধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *